৯০ দিনের জ্বালানি মজুত রাখুক সরকার, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে পরামর্শ সংসদীয় কমিটির

সরকার আশ্বস্ত করলেও উদ্বেগ কাটছে না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রকে আগাম সতর্ক করল সংসদীয় কমিটি। যে কোনওরকম সকটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে ৯০ দিনের জন্য অপরিশোধিত তেল মজুত করে রাখতে বলেছে সংসদের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি।
সংসদীয় কমিটির মতে, ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারের উচিত আরও বেশি বেশি করে তেল সঞ্চয় করে রাখা। যাতে কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের স্বাভাবিক অগ্রগতিতে কোনওরকম বিঘ্ন না ঘটে। কমিটির পরামর্শ, এই অবস্থায় কেন্দ্রের অন্তত ৯০ দিনের তেল মজুত করে রাখা প্রয়োজন। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৬-২৭ সালের দেশের চাহিদা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র যেন এই পর্যাপ্ত মজুতের জন্য যাবতীয় প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি কোন কোন দেশ থেকে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ সালের দেশের চাহিদা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র যেন এই পর্যাপ্ত মজুতের জন্য যাবতীয় প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি কোন কোন দেশ থেকে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে।
তেলের পাশাপাশি জ্বালানি গ্যাস নিয়েও কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বলা হয়েছে, সুবিধাভোগীদের জন্য এলপিজি আরও সহজলভ্য করা উচিত। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য জ্বালানি গ্যাস যাতে সাশ্রয়ী হয় সে চেষ্টা করা উচিত সরকারের। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে ভারতের চাহিদা জ্বালানি চাহিদা বাড়তে চলেছে। সে বিষয়েও সরকারের প্রস্তুত থাকা উচিত। কমিটির মতে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি আমদানির দেশ ভারত। দেশে হাইড্রোকার্বনের চাহিদা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। ২০২৪ সালে দেশে দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ২২ মিলিয়ন ব্যারেল। ২০৫০ সালের মধ্যে এই চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে উঠবে। তা পৌঁছে যাবে ৪৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রণালী। এই রুটেই চলে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তৈল বাণিজ্য। পশ্চিম এশিয়ার এক লিটার তেলও বাইরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও সরকার বহুবার জানিয়েছে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। জ্বালানি গ্যাস নিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও সম্প্রতি হরমুজ পেরিয়ে দুটি জাহাজে করে ৯০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি ভারতে এসেছে। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে যাতে কোনও সংকট তৈরি না হয় সে বিষয়েও কেন্দ্রকে পরামর্শ দেওয়া হল সংসদীয় কমিটির তরফে।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *