অস্কার মঞ্চে ২ নারীর ইতিহাস, সেরা মহিলা সিনেম্যাটোগ্রাফার হিসেবে বিশ্বজয় অটাম ডুরাল্ডের, বাজিমাত জেসি বাকলেরও

৯৮তম অস্কারের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন দুই নারী। ময়দান থেকে মহাকাশচারী হিসেবে নারীরা আগেই বিশ্বজয় করেছে, তবুও মহিলা সিনেম্যাটোগ্রাফার নিয়ে এযাবৎকাল সিনেদুনিয়ায় কম ছুঁৎমার্গ ছিল না! সিনেমার চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে নারীরা কি পুরুষের মতোই সাবলীল? এমন প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে সিনেদুনিয়ার আঙিনায়। তবুও সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে বহু আগেই ব়্যাচেল মরিশন, মারিসে আলবার্তে, লরা বেলিংহাম, নতাশা ব্রেইয়ার, চার্লট ব্রুস ক্রিসটেনশন, অ্যাগনেস গোদররা সিনেমায় চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে সিনেদুনিয়ার পুরুষ সিনেম্যাটোগ্রাফারদের টেক্কা দিয়েছেন। এবার মহিলা সিনেম্যাটোগ্রাফার হিসেবে প্রথম অস্কার জয় করে ইতিহাস গড়লেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপা।
দক্ষ ক্যামেরার কাজের জন্য অ্যাকাডেমির মঞ্চে প্রশংসা অর্জন করেছেন ফিলিপিনো এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ক্রিওল বংশোদ্ভূত আরকাপাও। সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলতিবারে অটামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অ্যাডলফো ভেলোসো (ট্রেন ড্রিমস), মাইকেল বাউম্যান (ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার) এবং দারিয়াস খন্দজি (মার্টি সুপ্রিম)। তবে পুরুষ প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে জয়ের হাসি হাসেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপাওই।
মহিলা সিনেম্যাটোগ্রাফার হিসেবে প্রথম অস্কার জয় করে ইতিহাস গড়লেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপা। ছবি- সংগৃহীত
৯৮তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে সবথেকে বেশি মনোনয়ন পেয়ে চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছিল ‘সিনার্স’। আর সেই সিনেমার জন্যেই সেরা সিনোম্যাটোগ্রাফার হিসেবে অস্কার জিতে নারী চিত্রগ্রাহকদের হয়ে যোগ্য জবাব দিলেন অটাম ডুরাল্ড। এর আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিন নারী। ২০১৮ সালে ‘মাডবাউন্ড’-এর জন্য র‍্যাচেল মরিসন, ২০২১ সালে ‘দ্য পাওয়ার অফ দ্য ডগ’ ছবির জন্য আরি ওয়েগনার এবং তার পরের বছর ২০২২ সালে ম্যান্ডি ওয়াকার মনোনীত হন ‘এলভিস’-এর জন্যে। কিন্তু এযাবৎকাল কারও ভাগ্যেই অস্কারের শিকে ছেড়েনি! ২০২৬ সাল সেদিক থেকে ইতিহাস গড়ল অটাম ডুরাল্ড আরকাপারের হাতে অ্যাকাডেমি পুরস্কার তুলে দিয়ে। পাশাপাশি দক্ষ ক্যামেরার কাজের জন্য অ্যাকাডেমির মঞ্চে প্রশংসা অর্জন করেছেন ফিলিপিনো এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ক্রিওল বংশোদ্ভূত আরকাপাও। সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলতিবারে অটামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অ্যাডলফো ভেলোসো (ট্রেন ড্রিমস), মাইকেল বাউম্যান (ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার) এবং দারিয়াস খন্দজি (মার্টি সুপ্রিম)। তবে পুরুষ প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে জয়ের হাসি হাসেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপাওই।
এবার প্রথম থেকেই সিনেবিশেষজ্ঞরা জেসি বাকলেকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। আর রবিবাসরীয় রাতে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। কারণ সম্প্রতি বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস থেকে ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস-এর মতো একাধিক পুরস্কার জিতেছেন আইরিশ নায়িকা জেসি বাকলে।
অন্যদিকে ছাব্বিশ সালের অস্কার মঞ্চে প্রথম আইরিশ নায়িকা হিসেবে অস্কার পেয়ে ইতিহাসকে চুম্বন করলেন জেসি বাকলে। ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত ‘হ্যামনেট’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অস্কার মনোনয়ন পান বাকলে। এর আগে ‘দ্য লস্ট ডটার’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য ‘সেরা সহ-অভিনেত্রী’ বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার তাঁর হাতছাড়া হয় অ্যাকাডেমি পুরস্কার তবে এবার প্রথম থেকেই সিনেবিশেষজ্ঞরা জেসি বাকলেকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। আর রবিবাসরীয় রাতে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। কারণ সম্প্রতি বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস থেকে ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস-এর মতো একাধিক পুরস্কার জিতেছেন আইরিশ নায়িকা জেসি বাকলে। এবার অস্কারের স্বাদ পেয়ে আপ্লুত অভিনেত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়েই অশ্রুসজল চোখে জানালেন, “সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি।” পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিঠ চাপড়ে দিতেও ভোলেননি তিনি।
ছাব্বিশ সালের অস্কার মঞ্চে প্রথম আইরিশ নায়িকা হিসেবে অস্কার পেয়ে ইতিহাসকে চুম্বন করলেন জেসি বাকলে। ছবি- সংগৃহীত
বিজয়ী বক্তৃতায় জেসি বাকলে বলেন, রোজ বার্ন, কেট হাডসন, রেনেট রেইনসভ এবং এমা স্টোনকে ধন্যবাদ। তোমাদের অভিনয় আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করে। আমি তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই কাজ করতে চাই।” এরপরই অস্কার হাতে পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাকলের মন্তব্য, “মা, বাবা তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমরাই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছ। শিখিয়েছ যে, অন্যের প্রত্যাশার মাপকাঠিতে যেন নিজেকে বিচার না করি, বরং নিজেদের মনের আবেগ ও ভালোবাসা দিয়েই যেন কাজ করতে পারি। আমার স্বামী ফ্রেডি সোরেনসেনকেও অনেক ধন্যবাদ। তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। তুমি চমৎকার একজন বাবা। তুমিই আমার সেরা বন্ধু এবং তোমার ২০,০০০ সন্তানের মা হতে চাই।” অটাম ডুরাল্ড এবং জেসি বাকলে ব্যাতীত এবার আর কারা ছক্কা হাঁকালেন? দেখে নিন সেই তালিকা।
সেরা সিনেমা: ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার
সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)
সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলে (হ্যামনেট)
সেরা পরিচালক: পল থমাস অন্ডারসন ( ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার)
সেরা সহ-অভিনেত্রী: অ্যামি ম্যাডিগান (ওয়েপনস)
সেরা সহ-অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)
সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু
সেরা সিনেম্যাটোগ্রাফি: সিনার্স (অটাম ডুরাল্ড আরকাপা)
সেরা সিনে-সম্পাদনা: ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার
সেরা সঙ্গীত (অরিজিনাল স্কোর): সিনার্স
সেরা মৌলিক গান: গোল্ডেন (কে-পপ ডেমন হান্টার্স)
সেরা কাস্টিং: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার (ক্যাসান্ড্রা কুলুকুন্ডিস)
সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: সিনার্স (রায়ান কুগলার)
সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার (পল থমাস অ্যান্ডারসন)
সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন
সেরা ভিস্যুয়াল এফেক্টস: অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ
সেরা সাউন্ড: এফ১
সেরা পোশাকশিল্পী – ফ্রাঙ্কেনস্টাইন (কেট হলি)
সেরা রূপসজ্জা ও কেশসজ্জা: ফ্রাঙ্কেনস্টাইন
সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম: কে-পপ ডেমন হান্টার্স
সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম: দ্য গার্ল হু ক্রায়েড পার্লস
সেরা লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম: টু পিপল এক্সচেঞ্জিং স্যালাইভা
সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম: মিস্টার নো বডি এগেনস্ট পুতিন
সেরা ডকুমেন্টারি শর্ট ফিল্ম: অল দ্য এম্পটি রুমস

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *