দলে ‘তরুণ তুর্কি’র বড়ই অভাব! ‘ডিজিটাল সৈনিকে’র খোঁজে বঙ্গ সিপিএম

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: আসনের নিরিখে রাজ্যে ‘সাইন বোর্ড’ সিপিএম (CPM) ! রক্তাল্পতায় ভুগছে লাল শিবির। পক্ককেশের আড়ালে ক্রমশ ফিকে হচ্ছে তারুণ্য! তাহলে কি বাংলার বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে বামেরা? সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবার নেটদুনিয়ার শরণাপন্ন হল আলিমুদ্দিন। একসময় কম্পিউটারের বিরোধিতা করা সিপিএম এখন ডিজিটাল দুনিয়ার দ্বারস্থ। ডিজিটাল সৈনিক খুঁজছে তারা। ডিজিটাল প্রচারে পারদর্শী, এরকম স্বেচ্ছাশ্রম দেবে, বাম মনোভাবাপন্ন তরুণ-তরুণীদের চাইছ বঙ্গ সিপিএম।
লিঙ্কড ইনে প্রোফাইল খুলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে পার্টির তরফে। এটা নিয়ে অবশ‌্য সিপিএমকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল ও বিজেপি। লিঙ্কড ইনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় বিভিন্ন সংস্থা। আর সেখানে প্রোফাইল খুলে ডিজিটাল কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া নিয়ে অনেকেই বলছে বঙ্গ সিপিএমে এবার কর্পোরেটের ছোঁয়া। বিজ্ঞাপনে পার্টির তরফে বলে দেওয়া হয়েছে, এটা চাকরি নয়, স্বেচ্ছাশ্রম। আর যাঁরা এই স্বেচ্ছাশ্রম দিতে ইচ্ছুক তাঁদের বামমনস্ক হতে হবে।
[আরও পড়ুন: ভাড়া দেওয়ার ক্ষমতা নেই! দূরে ডিউটি পড়তেই বিষ খেলেন সিভিক ভলান্টিয়ার]
এ প্রসঙ্গে সিপিএম রাজ‌্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সংবাদ মাধ‌্যমে বলেছেন, “বামমনস্ক তরুণ—তরুণীদের দলের মধ্যে আরও জায়গা দেওয়াই আমাদের লক্ষ‌্য। সাংগঠনিকভাবে সেই কাজ চলছে। নতুন মাধ‌্যম হিসেবে লিঙ্কড ইন-কেও ব‌্যবহার করছে আমাদের সোশ‌্যাল মিডিয়া টিম।” এইভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়ায় প্রমাণিত সিপিএমে লোকের অভাব রয়েছে, এমনটা বলছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের সোশ‌্যাল মিডিয়া ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্যর বক্তব‌্য, “সিপিএমে লোকের অভাব রয়েছে। তাই ওরা লিঙ্কড ইনে প্রোফাইল খুলে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। আমাদের তো এত লোক যে সকলকে জায়গা দিয়ে ওঠা যাচ্ছে না।” রাজ‌্য বিজেপির সোশ‌্যাল মিডিয়া ইনচার্জ সপ্তর্ষি চৌধুরির কথায়, “আমাদের কর্মীরাই এই কাজে এগিয়ে আসেন। ফলে ভাড়াটে সৈন‌্যর প্রয়োজন আমাদের হয় না।”
সিপিএম পার্টির বড় অংশই এখন সমাজমাধ‌্যমে প্রচারের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। আগে সোশ‌্যাল মিডিয়া নিয়ে একটা ছুৎমার্গ ছিল। অন‌্যদিকে আবার সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ সোশ‌্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব করে। মাঠে—ময়দানে দলের হয়ে লড়াইয়ে নামতে তাঁদের দেখা যায় না। পার্টির কাছে এটাও চিন্তার কারণ। তবে এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে আদৌ পার্টির কতটা লাভ হবে, জনসমর্থন বা ভোট বাড়বে কি না, তা নিয়ে অবশ‌্য সন্দেহ রয়েছে সিপিএমের বড় অংশেরই।
[আরও পড়ুন: ‘তোকেও খুন করব’, এবার ‘হুমকি’ শওকত মোল্লাকে]

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *