খাঁচায় টেকে না মন! শিম্পাঞ্জি বাইরে বের হতেই হুলুস্থুল কাণ্ড আলিপুর চিড়িয়াখানায়

নিরুফা খাতুন: ছোট্ট একটা খাঁচা। কাহাতক সেখানে মন টেকে। একটু তো বাইরে বের হতে ইচ্ছে করে! তাই করেছিল বুড়ি। তাতেই হুলুস্থুল কাণ্ড আলিপুর চিড়িয়াখানায়। পশুপাখি দেখার টানে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। তড়িঘড়ি খাঁচায় ফেরানো হয় চিড়িয়াখানার প্রিয় শিপাঞ্জিকে (Chimpanzee)। 

আলিপুরের এই চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoological Garden) বেশ কিছুদিন হয়ে গেল বুড়ির। ছোট্ট খাঁচাটিই তাঁর আস্তানা। সেখানে আবার ছোটু ও মস্তান নামে আরও দুই শিপাঞ্জির বাস। তাদের সঙ্গে নিত্যদিন চলে বুড়ির খুনসুটি। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, খাঁচা টপকে পালিয়েছে বুড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ একটি শিম্পাঞ্জি খাঁচার বেড়া টপকে বাইরে বেরিয়ে পড়ে। সেই সময় শিম্পাঞ্জির খাঁচার সামনে দর্শকরাও ছিলেন। শিম্পাঞ্জিকে খাঁচার বাইরে থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দর্শকরা।

শিম্পাঞ্জিরা মাঝে মাঝেই পাঁচিল টপকে বেরিয়ে পরে। তাই তাদের খাঁচার সামনে সৌর বিদ্যুতের বেড়া দেওয়া হয়েছে। সৌর বিদ্যুতের বেড়া টপকে কিভাবে এদিন বুড়ি বেরিয়ে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, বুড়ি মাঝে মাঝেই বেরিয়ে পড়ে। এদিন পাঁচিল টপকানোর সময় প্রথমে সৌর বিদ্যুতের বেড়ায় গিয়ে পড়ে। বেড়ায় খুব হালকা বিদ্যুৎ থাকে। তাই শক লাগলেও ক্ষতি হয়নি। বিদ্যুতের বেড়ায় লেগে বুড়ি ছিটকে পাঁচিল টপকে চলে আসে।
[আরও পড়ুন: মেট্রো ডেয়ারি মামলা: শেয়ার হস্তান্তরে CBI তদন্তের আরজি খারিজ হাই কোর্টে, স্বস্তিতে রাজ্য]
সোমবার সকালে কী ঘটেছিল? প্রশ্নের উত্তরে আলিপুর চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর আশিস সামন্ত জানান, ছোট থেকেই কিপারদের হাত ধরেই মাঝেমধ্যে খাঁচার বাইরে ঘুরতে বের হয় বুড়ি। এদিন সকাল ১০টা সাড়ে দশটা নাগাদ কিপার শিম্পাঞ্জিদের খাঁচায় ঢোকেন। কিপার খাঁচা থেকে বেরোনোর সময় বুড়ি ও তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে । সেই সময় দর্শক ছিল বলে আতঙ্ক ছড়ায়। তবে সঙ্গে সঙ্গে তাকে খাঁচায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।  মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দেন চিড়িয়াখানার কর্মীরা। এদিকে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় চিড়িয়াখানায়। প্রায়
এক ঘন্টা চিড়িয়াখানার প্রবেশপথ, টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এমনিতে বেশ মিষ্টি স্বভাবের শিপাঞ্জি বুড়ি।  আবার দুষ্টুমিতেও বেশ ওস্তাদ। তার এই দুষ্টু-মিষ্টি স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত চিড়িয়াখানার কর্মীরা। সেই মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থাও করা রয়েছে। বুড়ির এবং অন্যান্য শিপাঞ্জিদের খাঁচার চারপাশে সৌরবিদ্যুৎ চালিত তার দেওয়া আছে। আবার কাঁচের আবরণও দেওয়া দেওয়া আছে। এই গণ্ডীর মধ্যেই থাকে বুড়ি। মাঝেমধ্যে তারও একটু বাইরে যেতে ইচ্ছে করে। সেই জন্যই এমন কাজ হয়তো করে বসে বলে মত অনেকের। 
[আরও পড়ুন: অভিনব পদ্ধতিতে শিরদাঁড়া-হাঁটুর ব্যথা সারিয়ে প্রাক্তন সেনা আধিকারিককে সুস্থ করল SSKM]

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *