তন্ত্রের ফাঁদে পড়ে জ্যোতিষীর লালসার শিকার ৫৮ গৃহবধূ! গ্রেপ্তার নাসিকের ‘ক্যাপ্টেন’

নিজেকে তিনি বলেন ‘ক্যাপ্টেন’। পসার জমিয়ে তুলেছিলেন জ্যোতিষী হিসেবে। কিন্তু জ্যোতিষচর্চার অন্তরালেই ফাঁদে ফেলে একের পর এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হলেন অশোক খারাত নামের সেই ব্যক্তি। মহারাষ্ট্রের নাসিকে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে এমন এক ঘটনায়।
পুলিশের দাবি, ৬৭ বছরের অশোক নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা অফিসার বলে দাবি করতেন। তাই নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে। ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মহিলাদের তিনি নিজের অফিসে ডেকে আনতেন। তারপর সম্ভবত তাদের কোনও মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করতেন বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি সবটাই রেকর্ড হয়ে যেত ঘরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি পেন ড্রাইভ পেয়েছে। তার ভিতরে নাকি ৫৮ জন মহিলার সঙ্গে জ্যোতিষী বাবাজির ‘অপকীর্তি’ ধরা পড়েছে।
নাসিকে অশোকের ফার্মহাউসে ফাঁদ পেতেছিল পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আগে থেকেই নাসিকে অশোকের ফার্মহাউসে ফাঁদ পেতেছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁদের লক্ষ্যই ছিল হাতেনাতে ওই জ্যোতিষীকে ধরা। রাতের অন্ধকারে আচমকাই শোনা যায় ‘চোর, চোর’ চিৎকার। আসলে সেটা ছিল পুলিশদেরই ‘ফাঁদ’। আর তারপর সেই চিৎকারের মাঝেই অশোকের বাড়িতে ঢুকে পড়েন পুলিশকর্মীরা। আর তারপর তাঁরা হাজির হন সরাসরি বেডরুমে। হাতেনাতে ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, বহু সম্পত্তির মালিক অশোক। বেশ কিছু মন্দিরও তিনি নির্মাণ করিয়েছেন। সর্বত্রই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এমন এক ঘটনা ঘিরে শোরগোল মহারাষ্ট্রে। জানা গিয়েছে, বহু রাজনীতিবিদই ওই জ্যোতিষীর বাড়ি যেতেন। এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের দাবি, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী যেন বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন। পাশাপাশি সেলেব্রিটি অথবা নামী ব্যবসায়ীরাও ‘ক্যাপ্টেনে’র মক্কেল ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *