নির্বাচকের চাকরি ছাড়তে রাজি নন, বিসিসিআইয়ের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি আগরকরের!

২০২৩ সালের মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচক হন তিনি। তাঁর সময়কালে ভারত জিতেছে তিনিটি আইসিসি ট্রফি। তিনি অজিত আগরকর। সূত্রের খবর, টিম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাচক নাকি বিসিসিআইয়ের কাছে তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর ইচ্ছা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নির্বাচক থাকা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 
খানিক বিরূপ পরিস্থিতিতেই জাতীয় নির্বাচক হয়েছিলেন আগরকর। চেতন শর্মাকে বিতর্কিত কারণে সরানোর পর তাঁকে আনা হয়েছিল। তাঁর প্রথম বড় দায়িত্ব ছিল ২০২৩ বিশ্বকাপের দল বাছা। এরপর তিনি সব মিলিয়ে মোট চারটি আইসিসি ট্রফির দল বেছেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চ্যাম্পিয়নও ভারত। আবার গোটা দুই এশিয়া কাপও জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। একটা মাত্র আইসিসি ট্রফিতে ভারত ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। সেটা ২০২৩। সেবারও টিম ইন্ডিয়া রানার্স আপ। অর্থাৎ নিজের সময়কালে চারটি আইসিসি ট্রফির ৩টিই দলকে জিতেছেন আগরকর। অপরটিতে টিম ইন্ডিয়া রানার্স আপ। আর কোনও নির্বাচক অন্তত খাতায় কলমে এতটা সফল নন। সেই কারণেই আগরকরের আবেদনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এমনিতে ভারতীয় ক্রিকেট নির্বাচক হিসাবে দিলীপ বেঙ্গসরকার, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের মতো কিংবদন্তিদের দেখেছে। এঁদের তুলনায় লো প্রোফাইল হলেও আগরকরের ক্রিকেটীয় অর্জন কম কিছু নয়। কিন্তু যে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই তাঁর ক্রিকেটীয় অর্জন টেনে এনে খোঁচা দেওয়া হত। কিন্তু সেসব তুড়ি মেরে উড়িয়ে আগরকর উত্তর দিয়েছেন পারফরম্যান্স দিয়ে। তাঁর নেওয়া একাধিক সাহসী সিদ্ধান্তই তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সূত্রের খবর, আগরকরের উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এগিয়ে ছিলেন। তবে সেই প্রক্রিয়াও আপাতত থমকে রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, ভারতের এসবের জয়ের মধ্যেও দলে একটি বড়সড় ট্রানজিশন হয়ে গিয়েছে। গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদব, শুভমান গিলদের হাত ধরে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দুটি ফরম্যাটে বিরাট-রোহিত নির্ভরতা ঘুচিয়ে টিম গেম খেলছে টিম ইন্ডিয়া। তাছাড়াও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে ঈশান কিষানকে দলে নেওয়া একটা মাস্টারস্ট্রোক। সব মিলিয়ে আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত দিশা দেখাবে।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *