বিড়াল প্রেমীদের স্বর্গরাজ্য, দেশের প্রথম ক্যাট মিউজিয়ামে দেখা মিলবে আস্ত টম-ডোরেমনদের!

কর্ণাটকের ভ্রমণ তালিকায় মহীশূর শহরটি অনেক সময় কিছুটা আড়ালেই থেকে যায়। অথচ চামুণ্ডী পাহাড়ের পাদদেশে শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা এই শহরের অলিগলিতে ইতিহাস আর রাজকীয় আভিজাত্য মিশে আছে পরতে পরতে। একদা বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একনিষ্ঠ সামন্তশক্তি হিসেবে যার উত্থান, কালের নিয়মে সেই মহীশূরই হয়ে উঠেছিল দাক্ষিণাত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মণি। পর্যটকদের কাছে এই শহর মানেই তো ইন্দ্রপুরীর মতো আলোকোজ্জ্বল রাজপ্রাসাদ, বৃন্দাবন গার্ডেনের মায়াবী ফোয়ারা কিংবা পাহাড়ের চূড়ায় মা চামুণ্ডেশ্বরীর জাগ্রত মন্দির। কিন্তু ঐতিহ্যের সেই চেনা ভিড় এড়িয়ে এবার মহীশূর ডালি সাজিয়ে বসেছে এক অভিনব চমক নিয়ে।
আপনি কি বিড়ালপ্রেমী? চারপেয়ে এই নরম পশমওয়ালা জীবদের রাজকীয় মেজাজ কি আপনাকে মুগ্ধ করে? তবে পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে একটু থামুন। প্রাচীন সৌধ আর স্থাপত্যের এই খাসতালুকে এখন নিঃশব্দে পা ফেলেছে ভারতের প্রথম বিড়াল সংগ্রহশালা— ‘জিন মিন ক্যাট ওয়ার্ল্ড’। যেখানে ইতিহাসের ধুলো নয়, বরং বিড়ালদের আদুরে স্বভাব আর তাদের অজানা জীবনকথার এক মায়াবী জগৎ আপনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ঐতিহ্যের মহীশূরে এ এক আধুনিক প্রেমের আখ্যান— বিড়াল আর মানুষের চিরন্তন বন্ধুত্বের গল্প।
ছবি: সংগৃহীত
উদ্যোক্তা শরথ বিএস জানালেন, এই মিউজিয়াম তৈরির নেপথ্যে রয়েছে এক বিষণ্ণ স্মৃতি। ২০২৪ সালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর প্রিয় বিড়াল কোকোর। সেই শোক থেকেই শরথ ঠিক করেন, বিড়ালদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করবেন। নিজের জমানো পুঁজি দিয়েই গড়ে তোলেন এই অভিনব আঙিনা। মহীশূর রাজপ্রাসাদের কাছে নাঞ্জনগুড়-উটি রোডে অবস্থিত এই মিউজিয়ামে এখন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে।
চশমা-পরা সেই জেদি ক্যালিকো বিড়ালটির ছবি ফ্রেমবন্দি হয়ে দেওয়ালে ঝুলছে। নাম তার ‘কোকো’। তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক অনন্য জগৎ। বিড়ালদের নিজস্ব বিনোদন পার্ক আর সংগ্রহশালা। কর্নাটকের মহীশূরে পথ চলা শুরু করল ভারতের প্রথম বিড়াল মিউজিয়াম ‘জিন মিন ক্যাট ওয়ার্ল্ড’। বিড়ালদের জীবনযাত্রা এবং তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাঠ দিতেই এই নয়া উদ্যোগ।
উদ্যোক্তা শরথ বিএস জানালেন, এই মিউজিয়াম তৈরির নেপথ্যে রয়েছে এক বিষণ্ণ স্মৃতি। ২০২৪ সালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর প্রিয় বিড়াল কোকোর। সেই শোক থেকেই শরথ ঠিক করেন, বিড়ালদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করবেন। নিজের জমানো পুঁজি দিয়েই গড়ে তোলেন এই অভিনব আঙিনা। মহীশূর রাজপ্রাসাদের কাছে নাঞ্জনগুড়-উটি রোডে অবস্থিত এই মিউজিয়ামে এখন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে।
ছবি: সংগৃহীত
সংগ্রহশালার অন্দরমহল সাজানো হয়েছে বিচিত্র সম্ভারে। এক দিকে যেমন মিশরের প্রাচীন বিড়াল মূর্তি রয়েছে, অন্য দিকে তেমনই জায়গা করে নিয়েছে টম অ্যান্ড জেরি বা ডোরেমনের মতো জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চরিত্ররা। রয়েছে বিড়াল সংক্রান্ত প্রচুর শিল্পকর্ম। তবে কেবল বিনোদন নয়, বিড়ালদের চেনার জন্য এখানে রয়েছে তথ্যের ভাণ্ডার। বিড়ালের দৃষ্টিশক্তি কেমন, তাদের শারীরিক ভাষা বা ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ কীভাবে বুঝতে হয়, কখন তাদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি— সবটাই বড় বড় বোর্ডে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরথ মনে করেন, সাধারণ মানুষ বিড়ালের বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে খুব একটা অবহিত নয়। পৃথিবীতে প্রায় ৪০-৫০ রকমের বিড়ালের প্রজাতি থাকলেও আমারা সে সম্পর্কে প্রায় কিছু জানি না বললেই চলে। সাধারণ মানুষকে বিড়াল সম্পর্কে সচেতন করতেই এই প্রয়াস। যদিও তাঁর এই মিউজিয়াম কোনও বিশেষ প্রজাতির প্রচারের জন্য নয়।
মিউজিয়ামে প্রবেশাধিকার থাকলেও বিড়ালদের ছোঁয়ার ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম রয়েছে। তাদের নিজস্ব গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নামমাত্র প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে ছোট-বড় সকলেই এখানে বিড়ালদের জীবনযাত্রা পরখ করে দেখে আসতে পারেন। ইস্তাম্বুল বা জাপানে এই ধরনের মিউজিয়াম থাকলেও ভারতে এটিই প্রথম। মহীশূরের পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে মার্জার-প্রেম ছড়িয়ে দেওয়াই এখন জিন মিন ক্যাট ওয়ার্ল্ডের আসল লক্ষ্য।
বর্তমানে এখানে প্রায় ২০টি বিড়াল রয়েছে। সবই দত্তক নেওয়া। এর মধ্যে বিদেশি রাঁগডল বা বেঙ্গল ক্যাটের পাশাপাশি দেশি বিড়ালও রয়েছে। তাদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছে ১০০০ বর্গফুটের বিশাল বড় ঘেরা এলাকা। শরথ ইন্টারনেটে বিদেশের ধাঁচ দেখে তৈরি করেছেন বিশেষ ‘ক্যাটিও’ বা বিড়ালদের বারান্দা। জালের তৈরি টানেল দিয়ে বিড়ালরা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবে। তারা বাইরের প্রকৃতির সান্নিধ্যিও পাবে, আবার কোনও রকম নিরাপত্তা থেকেও বঞ্চিত হবে না।
ছবি: সংগৃহীত
মিউজিয়ামে প্রবেশাধিকার থাকলেও বিড়ালদের ছোঁয়ার ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম রয়েছে। তাদের নিজস্ব গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নামমাত্র প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে ছোট-বড় সকলেই এখানে বিড়ালদের জীবনযাত্রা পরখ করে দেখে আসতে পারেন। ইস্তাম্বুল বা জাপানে এই ধরনের মিউজিয়াম থাকলেও ভারতে এটিই প্রথম। মহীশূরের পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে মার্জার-প্রেম ছড়িয়ে দেওয়াই এখন জিন মিন ক্যাট ওয়ার্ল্ডের আসল লক্ষ্য।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *