‘২০১৯-এ বামেদের ২৩% ভোট বিজেপি পেয়েছিল,’ অশোকের ‘বোধোদয়’ নিয়ে খোঁচা গৌতম দেবের

বামের ভোট রামে যাওয়া নিয়ে শনিবারই প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বাম কর্মী সমর্থকদের কাছে অনুরোধ করেছেন বিজেপি ভোট দেওয়া চলবে না। নিজের দলকেই ভোট দিতে হবে। তৃণমূল হারানোর এটা কৌশল হতে পারেনা। ভোটমুখী বাংলায় অশোক ভট্টাচার্যের এহেন ‘স্বীকারোক্তি’ ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি। প্রশ্ন ওঠে তাহলে সত্যিই বামের ভোট রামে গিয়েছে! তবে এহেন বক্তব্য থেকে পিছু হটতে নারাজ বর্ষীয়ান এই বামনেতা। অন্যদিকে এহেন মন্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।
২০১৯ সালে ২২ থেকে ২৩ শতাংশ ভোট বাম থেকে রামে গিয়েছিল। তাতে লাভবান হয়েছিল বিজেপি। এবার সেই ভোট ফেরাতে তৎপর বামেরা। তারা চাইছে তাদের ভোট ফিরে আসুক। যেভাবেই হোক বাম প্রার্থীরা যেন সব ভোট পায়। কোনওভাবেই যাতে ভোট ভাগ না হয়। তাই শনিবার প্রকাশ্য সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মঞ্চে উপস্থিত থাকাকালীন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য সকলের কাছে আহ্বান করেন, বামেদের ভোট ফেরানোর জন্য। তাঁর কথায়, গত তিনটি বিধানসভায় তৃণমূলকে হারানোর জন্য বাম সমর্থকরা যেভাবে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তাতে কোনও লাভ হয়নি। বামেরাই রাজ্যে প্রকৃত বদল আনতে পারে। নতুন সূর্যোদয় বামেদের হাত ধরেই হবে। তাই ভোটটা বামেদের দিতে হবে। তার এই কথার পরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ যে সত্যি ছিল তা প্রমাণিত হয়ে যায়। এরপরেও যদিও অশোক ভট্টাচার্য তাঁর কথা থেকে পিছপা হননি। 
আজ রবিবার তিনি বলেন, “যে করেই হোক বামেদের ভোট ফেরাতে হবে। ২০১৯ সালে একটা উগ্র হিন্দুত্ববাদ কাজ করেছিল। তাই ওই সময় আমাদের ২২ থেকে ২৩ শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছিল। সেটা যে করেই হোক ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের সেই কাজ করতে হবে। সকলকে বিষয়টা বোঝাতে হবে বিজেপিকে ভোট দেওয়াটা ভুল। আর আমি আশাবাদী এবার বামেরা বিধানসভা নির্বাচনে আসব পাবে। তার কারণ তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিরও মুখোশ খুলে গিয়েছে। জীবিত থাকা পর্যন্ত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে পারব না।” অন্যদিকে এবিষয়ে মেয়র গৌতম দেব বলেন, “বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে উনার। এতদিনে বুঝতে পেরে সত্যি কথা বলায় উনাকে ধন্যবাদ। উনি বুঝতে পেরেছেন নিজের নাক কেঁটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা যায়না।”

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *