কুণাল ঘোষের নম্বর পোস্ট করে টাকা চাওয়ার ‘নিদান’ বিজেপির! তুঙ্গে বিতর্ক

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kuntal Ghosh) মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে সারদার টাকা ফেরত চাওয়ার ‘নিদান’ দিলেন বিজেপির এক কার্যকর্তা। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার প্রাক্তন-সহ সভাপতি তথা বর্তমানে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার অন্যতম কার্যকর্তা অভিজিৎ সিকদার বুধবার তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “পুজোর মুখে নিজেদের জমানো সারদার টাকা ফেরত পেতে চাইলে এই নম্বরে কল করুন…।” তার পর একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে কুণাল ঘোষের নাম লেখা হয়েছে। যা নিয়ে বিজেপিকে এক হাত নিয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্যের অন্যতম মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদি বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে বলেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হলে সারদার‌ টাকা ঘরে ঘরে ফিরিয়ে দেব। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর নম্বরটা আগে দেওয়া উচিৎ বিজেপির।”
এদিন সামাজিক মাধ্যমে অভিজিৎ সিকদার পোস্ট করতেই সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ফোন করতেও শুরু করে ওই পোস্টে দেওয়া নম্বরে। অভিজিৎ সিকদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের নেতা সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীর নম্বর দিয়ে তৃণমূল বলছে ১০০ দিনে কাজের টাকা ফেরত চাইতে। ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড বন্ধ হয়ে যায়। কুণাল ঘোষ সাড়ে তিন বছর জেলে খেটেছেন। চিটফান্ড সারদায় যাদের টাকা গিয়েছে তারাও তো কুণাল ঘোষের কাছে টাকা ফেরত চাইতে পারে। তাই নম্বরটা দিয়েছি।” তৃণমূল মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস পালটা বলেছেন, “নিজেদের দোষ ঢাকা দিতে ব্যর্থ প্রয়াস। মানুষ এটাকে গ্রহণ করবে না। কোর্টের নির্দেশে তদন্ত করছে সিবিআই। টাকা ফেরত পেতে চাইলে সিবিআইয়ের কাছে এই টাকা ফেরত চাক। সিবিআইয়ের নম্বর দিক ওরা।”
[আরও পড়ুন: বাতাবি লেবু দিয়ে প্রতিমা! চমক কাকদ্বীপের বধূর]
এখানেই না থেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নম্বর বিজেপি যাতে প্রকাশ করে তার দাবিও করেছেন তিনি। প্রসেনজিৎ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমি প্রধানমন্ত্রী হলে সারদার টাকা ঘরে ঘরে ফেরত দেব। তার নম্বর দিক সারদার টাকা ফেরত পেতে। আর কুণাল ঘোষ যু্ক্ত নয় বলেই সিবিআই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। তাই কুণাল ঘোষ সসম্মানে ঘুরে বেরাচ্ছেন। এই সব মিথ্যা প্রচারে লাভ হবে না। কুণাল ঘোষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। তেমনই আর একটা মিথ্যা প্রচার এটা। কুণাল ঘোষকে বাংলার মানুষ চেনে। এইভাবে মিথ্যা কথা বলে কুণাল ঘোষ বা তৃণমূলের সম্মানহানি ওরা করতে পারবে না।” পালটা বিজেপির বিষ্ণপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “আমাদের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নম্বর প্রকাশ করে যে খেলাটা তৃণমূল শুরু করেছে এটা তারই কাউন্টার বলা যেতে পারে। যেটা করেছে আমাদের যুব মোর্চার এক কার্যকর্তা। আর প্রধানমন্ত্রী কবে বলে গেছিল টাকা ফেরত দেব। জানা নেই। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সারদার সম্পদ তৃণমূল যেখানেই রাখুক তা বের করে ফেরত দেবে। তৃণমূল আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত দল।”
[আরও পড়ুন: পায়রার রক্ত দিয়ে শুরু হত পুজোর রীতি! ঐহিত্যবাহী বাহিন জমিদার বাড়ির পুজো এখন বারোয়ারি]

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *