দিল্লিতে দিনভর কর্মসূচি তৃণমূলের, সকালে সেন্ট্রাল ভিস্তা, দুপুরে রাজঘাটে অবস্থান

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: কাজ করেও মেলেনি টাকা। বারবার কেন্দ্রের কাছে দরবার করেও হয়নি সুরাহা। এবার তাই দিল্লির বুকে সংগঠিত আন্দোলনে নামলেন বাংলার বঞ্চিত কৃষক, শ্রমিকরা। নেতৃত্বে শাসকদল তৃণমূল (TMC)। বাংলা থেকে কয়েক হাজার বঞ্চিতকে নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক, নেতা-মন্ত্রীরা। রয়েছে ছাত্র-যুব নেতৃত্বও। সোমবার, গান্ধীজয়ন্তীতে বঞ্চিতদের সঙ্গে নিয়ে একাধিক জায়গায় ধরনা কর্মসূচিতে নামছে দল। রবিবার রাত পর্যন্ত দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের বাসভবনে তারই রূপরেখা ঠিক করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার সকালে ছাত্র-যুবদের নেতৃত্বে নতুন সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হবেন তৃণমূল কর্মী, সমর্থক ও শ্রমিক-কৃষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে তাঁদের সেখানে নিয়ে যাবেন টিএমসিপি, যুব তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। সেন্ট্রাল ভিস্তা (Central Vista) ঘুরিয়ে বাংলার বঞ্চিতদের বোঝানো হবে যে কাজ করানোর পরও দরিদ্র মানুষদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে সেই টাকায় এত বড় নতুন সংসদ ভবন তৈরি হয়েছে।
[আরও পড়ুন: ছাগ পালনেই চলত সংসার, ধারে লটারির টিকিট কেটে কোটিপতি বর্ধমানের যুবক!]
এরপর দুপুর দেড়টা নাগাদ রাজঘাটে (Raj Ghat) ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন। মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই ঘণ্টা দুয়েক ধরনা। থাকবেন শীর্ষ নেতারা সকলে। রবিবারের বৈঠকে তেমনই ঠিক হয়েছে বলে জানান লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। তিনি বলেন, ”আমাদের প্রতিবাদের আসল ইস্যু তো মনরেগার টাকা। মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট। তো মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনের সঙ্গে আমাদের এই কর্মসূচি সাযুজ্যপূর্ণ। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েই শুরু হবে কর্মসূচি। সকালের ধরনা কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছাত্র-যুব নেতৃত্বকে। দুপুরে অভিষেকের নেতৃত্বে আমরা রাজঘাটে যাব। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক। তার পর সন্ধেবেলা ৩ তারিখের কর্মসূচি নিয়ে আমরা আলোচনা করব।” সূত্রের খবর, সোমবার দলের বৈঠক হবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে।
[আরও পড়ুন: ‘ডু অর ডাই’, আগামী দু দিন দিল্লিতে আন্দোলনের রণনীতি ঠিক করলেন অভিষেক]
রবিবার রাতে দলীয় বৈঠকের পর বেরিয়ে কামারহাটির মদন মিত্র বলেন, ”দল যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবেই আমরা আন্দোলন করব। যদি দল বলে, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে হবে, তাই করব। যাঁদের জন্য এসেছি দিল্লিতে, তাঁদের হয়ে যা করার সব করব।” দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ”দলের অভ্য়ন্তরে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে এখনই কিছু বলব না। তবে ২ তারিখের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে। অভিষেক সকলের মতামত নিয়েছেন। ৩ তারিখের কর্মসূচি ঠিক করতে আবার বৈঠকে বসা হবে।”

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *