চোরাই ট্রাকের চাকা বিক্রির ছক কষেই বিপাকে! উত্তর প্রদেশে ‘প্লাস্টিক-রহস‌্যে’ গ্রেপ্তার দাগি চালক

অর্ণব আইচ: ১৮ লক্ষ টাকার প্লাস্টিকের দানাভর্তি ট্রাক (Truck) চুরি করেও থেমে থাকেনি ‘দাগি চালক’। চোরাই ট্রাকের চাকা খুলে বিক্রির ছক কষে সে। কিন্তু এই উপরি রোজগার করতে গিয়েই পুলিশের নজরে পড়ল নুরুল হাসান। আর তাতেই কলকাতা থেকে ট্রাকভর্তি ১৮ লক্ষ টাকার প্লাস্টিকের দানা উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) পাচার ‘রহস্যে’র পর্দা উন্মোচন করল পুলিশ। কলকাতা পুলিশ (Kollkata Police) ও উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গ্রেপ্তার হল ট্রাকচালকের আড়ালে থাকা উত্তরপ্রদেশের ‘দাগি’ নুরুল হাসান। প্লাস্টিক-রহস‌্য উন্মোচনের পর বৃহস্পতিবার তাকে পুলিশ কলকাতায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত জুলাই মাসের শেষের দিকেই এই ঘটনাটি ঘটে। পশ্চিম বন্দর (West port) এলাকা থেকে ৬০০ বস্তা প্লাস্টিকের দানা নিয়ে মধ‌্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোরে পৌঁছনোর কথা ছিল একটি ট্রাকের। কিন্তু এই রাজ‌্য ছাড়ানোর পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ট্রাকের চালক। ১৮ লক্ষ টাকার জিনিস জায়গামতো না পৌঁছনোয় একটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার কর্তা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পশ্চিম বন্দর থানার পুলিশ বিভিন্ন টোল প্লাজার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ট্রাকটি গিয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ ধন্দে পড়ে যায়।
[আরও পড়ুন: মতপ্রকাশের দোহাই দিয়ে খলিস্তানিদের সমর্থন! ট্রুডোকে তোপ দলীয় সাংসদেরই]
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের ময়নাঠোর থানার পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে পশ্চিম বন্দর থানার আধিকারিকরা সেখানে গিয়েই রহস্যের পর্দা ফাঁস করেন। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, কলকাতা থেকে বের হওয়ার পর ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) থেকে ট্রাক নিয়ে ইন্দোরের দিকে না গিয়ে সে সোজা চলে যায় বিহার (Bihar)। সেখান থেকে উত্তর প্রদেশ হয়ে দিল্লির কাছে বিজয়গড়ে। সেখানেই একটি চোরাই সিন্ডিকেটের কাছে ১৮ লক্ষ টাকার প্লাস্টিকের দানা সাড়ে চার লক্ষ টাকায় বিক্রি করে সে। এর পর ট্রাক নিয়েই সে ফিরে আসে মোরাদাবাদে নিজের বাড়ির কাছে। 
[আরও পড়ুন: টেট পাশ না করেই প্রাথমিকে চাকরি! OMR শিট বিকৃতি মামলায় পর্ষদের রিপোর্টে বিস্মিত হাই কোর্ট]
এবার অতিরিক্ত টাকা রোজগার করতেই রাস্তার ধারে একটি গ‌্যারাজের কাছে গিয়ে খুলে ফেলে ট্রাকের ৬টি চাকা। চাকাগুলি একটি ছোট মালবাহী গাড়ি করে নিয়ে এসে বাড়ির সামনে সাজিয়ে রাখে। সস্তায় চাকা বিক্রি করা হবে বলে খদ্দের খুঁজতে থাকে সে। চালক নুরুলের বিরুদ্ধে আগেও চুরি থেকে শুরু করে অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখানো বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। তাই তার এই চাকা বিক্রির ছক দেখে গ্রামের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁরাই ময়নাঠোর থানায় বিষয়টি জানান। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে এসে জেরা করতে থাকে। টানা জেরার সামনে ভেঙে পড়ে সে। চাকাগুলি উদ্ধার করার পর উত্তর প্রদেশ পুলিশ কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পশ্চিম বন্দর থানার পুলিশ ময়নাঠোর থানায় যায়। গ্রেপ্তার করার পর তাকে নিয়ে দুই রাজ্যের পুলিশ যৌথভাবে যায় বিজয়গড়ে। কিছু প্লাস্টিক গলানো হলেও বাকিগুলি উদ্ধার করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *