জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: ছোটবেলায় অকালে বাবার মৃত্যু। তারপর আর ইচ্ছা থাকলেও পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। তাই এবার সুযোগ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। বয়স যে শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনও বাধা হতে পারে না, তা প্রমাণ করলেন তিনি। রবীন্দ্রমুক্ত বিদ্যালয় থেকে দিলেন পরীক্ষা।
স্বপন মজুমদারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছিল বনগাঁর কালীতলা বিশ্ববন্ধু শিক্ষা নিকেতনে। বুধবার এডুকেশন পরীক্ষা ছিল। গত বছর তিনটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। চলতি বছর দুটি পরীক্ষা বাকি ছিল। তিনি জানান, “আমি বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই৷ কাটমানির শিক্ষা বা তোলাবাজির শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই না। ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর কারণে খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি৷ তবে ক্লাসে প্রথম হতাম৷ পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে পরীক্ষা দিচ্ছি৷ পড়াশোনার কোনও বয়স হয় না৷ মাধ্যমিক আগেই দিয়েছি। এবার উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছি৷”
[আরও পড়ুন: ফিল্মি কায়দায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে দিনেদুপুরে সমবায় ব্যাঙ্কে ডাকাতি, হলদিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য]
পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এদিন ভিড় জমান স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা৷ বিধানসভা নির্বাচনের সময় স্বপন মজুমদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল শাসকদল। নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা সার্টিফিকেট ভুয়ো বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেরও দ্বারস্থ হতে দেখা যায় শাসকদলের নেতাদের। সে কারণেই কী শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট পেতে এত ব্যস্ত বিধায়ক, প্রশ্ন তুলছে শাসকদল।
বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, “বনগাঁর মানুষ হিসেবে আমরা লজ্জিত যে একজন জাল সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষিত হতে চাইছে। এটা একমাত্র বিজেপিতেই সম্ভব। এটা নিয়ে এখনও আদালতে মামলা চলছে। কীভাবে উনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার অ্যাডমিট কার্ড পেলেন? আমরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই ও রাজ্য সরকারের মাধ্যমে তদন্তের আশা করছি।”
[আরও পড়ুন: উদ্ধার সিসি ক্যামেরার DVR, পুলিশের হাতে পুরুলিয়ায় সোনার দোকানে ডাকাতির ‘তথ্য ভাণ্ডার’]
Source: Sangbad Pratidin
