অর্ণব আইচ: নাকতলা উদয়ন সংঘ বললেই উঠে আসত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। দক্ষিণ কলকাতার এই জনপ্রিয় পুজোর সমস্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকতেন তিনি। কিন্তু গত বছর পুজো থেকেই বদলে যায় ছবিটা। তাঁকে ছাড়াই ধুমধাম করে হয় পুজোর আয়োজন। আর এবার এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয় রাজ্যের আরেক মন্ত্রীর নাম। অরূপ বিশ্বাসই এখন ক্লাবের মুখ্য উপদেষ্টা। শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশের সময় এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পার্থ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর গলায় অভিমানের সুর।
আলিপুর আদালতে পেশের সময় এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় পার্থকে। উত্তরে তিনি বলেন, “খুব ভাল সিদ্ধান্ত, অরূপ অত্যন্ত সুদক্ষ, দুঁদে সংগঠক।” এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয় নাকতলার পুজো তো আপনার নামেই পরিচিত। উত্তরে বলেন, ‘তাহলে সেটাই থাকবে। পাথরে নাম লিখলে ক্ষয়ে যেতে পারে, হৃদয়ে নাম লিখলে রয়ে যায়।” শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যপালের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়েও মুখ খোলেন পার্থ। বলেন, ”মাথার উপরে সরকার আছে। সরকার বুঝবে।”
[আরও পড়ুন: বিবস্ত্র করে হস্টেলে ‘ব়্যাগিং’, যাদবপুর কাণ্ডে পকসো আইনে মামলা কলকাতা পুলিশের]
এদিকে, জামিন মামলার শুনানিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আগে জামিনের আবেদন করেছিলাম। SSC আইন ও পদ্ধতি নিয়ে বলেছিলাম। বাগ কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে FIR হয়েছে। কিন্তু ওই রিপোর্টে কোথাও পার্থবাবুর নাম নেই। উনি সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। উনি জামিন পেলে তদন্তে কোথায় সমস্যা? স্বাস্থ্যর কথা জানিয়ে জামিন চাইছে।” কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়দের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি প্রসঙ্গেও সওয়াল করেন পার্থ। বলেন, ”স্যার এখানে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় বা পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলে নয়, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বয়স বাড়ানোর। যাদের অবসরের বয়স ৬০ ছিল, তাঁদের ৬৫ করা হয়েছিল। যাঁরা অধ্যাপক ছিলেন তাঁদের ৬৫ বছর বয়স বাড়িয়ে ৭০ করা হয়। যদি নির্দিষ্ট কারও হয়, তাহলে সেটাকে এক্সটেনশন বলে। স্যার এটা কোনও এক্সটেনশন নয়। রাজ্যপাল অনুমোদন দিয়েছিলেন।”
প্রথম থেকেই জামিনের আরজি খারিজের আবেদন জানান সিবিআই আইনজীবী। বলেন, “অসুস্থতা, বয়স, দীর্ঘ দিন হেফাজতে থাকা, বিচার শুরু না হওয়ার কথা বলে জামিন চাওয়া হয়েছে। এটা সেই মামলা যেখানে যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।” সওয়াল জবাব শেষে বিচারক বলেন, ”আপনারা ইকুয়ালিটির কথা বলছেন। তাহলে সিবিআই কী চিহ্নিত করতে পেরেছে সব অযোগ্যদের? কয়েকজনের নাম চার্জশিটে এসেছে। বাকিরা কোথায়?” সিবিআইকে ভর্ৎসনা করলেও শেষ পর্যন্ত জামিনের আরজি খারিজ করে দেন বিচারক। এখনও জেলেই থাকতে হবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।
দেখুন ভিডিও:
[আরও পড়ুন: খাস কলকাতায় আঠারোর আগেই ভোট দিচ্ছে স্কুলের ছাত্রীরা! ব্যাপারটা কী?]
Source: Sangbad Pratidin
