জাতীয় পতাকার জন্য দিতে হবে ২০ টাকা! ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক কাশ্মীরে

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বিতর্কের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। ঘটনার কেন্দ্রস্থল জম্মু কাশ্মীরের (Jammu & Kashmir) অনন্তনাগ। শোনা যাচ্ছে, সেখানকার দোকানে জাতীয় পতাকা রাখার ‘ডিপোসিট ফি’ হিসাবে কুড়ি টাকা করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও মাইকে ঘোষণা করা হয়। যদিও জেলা আধিকারিক জানিয়েছেন এই পতাকা কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই হবে।
অনন্তনাগ চিফ এডুকেশন অফিসার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় জেলার স্কুলগুলির প্রত্যেক শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের থেকেও একই মর্মে ২০ টাকা করে নেওয়া হবে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয়ে যায় আলোচনা। চাপের মুখে পড়ে বিজ্ঞপ্তি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্তা। যদিও দোকান মালিকদের উদ্দেশে কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। শনিবার হঠাতই বাজারে এসে হাজির হয় একটি মাইক লাগানো গাড়ি। তা থেকেই শোনা যায় এই অদ্ভুত বিজ্ঞপ্তির ঘোষণা।
বলা হয়, “প্রত্যেক দোকান মালিককে তাঁদের ট্রেড লাইসেন্সের অফিসে গিয়ে জমা করে আসতে হবে ২০ টাকা। যাঁরা দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রত্যেকেই এই নির্দেশ পালন করুন।” হঠাৎ এমন ঘোষণা শুনে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকার দোকানগুলিতে। এই প্রসঙ্গে অনন্তনাগের ডেপুটি কমিশনার পীযূষ সিংলা জানান, তাঁর অনুমতি ছাড়াই এমন ঘোষণা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি ঘোষণা করেছিল, তাকেও সাসপেন্ড করেছে প্রশাসন।
[আরও পড়ুন: Arpita Mukherjee: ‘মাকে দেখবেন’, মন্তব্য করে ফের ট্রোলড পার্থ ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা]
স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে সূচনা হয়েছে অমৃত মহোৎসব। আর সেই উদযাপনের অংশ হিসেবেই ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ (Har Ghar Tiranga) কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট প্রতিটি বাড়িতেই ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলিত হবে। সেই মর্মেই কাশ্মীরের এই জেলার দোকানগুলি থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্কুলগুলিতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চিফ এডুকেশন অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী বুদগাম জেলার স্কুলগুলির সমস্ত পড়ুয়াদের থেকে ২০ টাকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সমস্ত শিক্ষা কর্মীদেরও চার দিনের মধ্যেই দিতে হবে ২০ টাকা।” এছাড়াও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, “একই পরিবারে যদি একের অধিক সন্তান থাকে, তাহলে কেবল একজন টাকা দিলেই হবে।”
[আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তে বদল, রাজ্য সরকারের বঙ্গবিভূষণ প্রাপকের তালিকা থেকে বাদ অমর্ত্য সেনের নাম]
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti )। একটি টুইটের মাধ্যমে তিনি জানান, “দেশপ্রেম স্বাভাবিক ভাবে আসা উচিত। বলপূর্বক তা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। যেভাবে জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন সেই এলাকার পড়ুয়া, দোকানদারদের কাছ থেকে জাতীয় পতাকার জন্য টাকা নিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে কাশ্মীর আমাদের শত্রুপক্ষের কোনও এক দেশ।” 

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *