সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ওয়ানডে ক্রিকেট পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেওয়া দরকার। এমনই দাবি তুললেন পাক কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram)। ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে কেবল সময় নষ্ট হয় বলেই মত তাঁর। ক্রিকেটাররাও দায়সারা ভাবেই এই ফরম্যাটে খেলেন বলে মনে করেন আক্রম। দর্শকদের মধ্যেও ক্রমশই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেট। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন বেন স্টোকস। সেই বিষয় টেনে এনেই এহেন কথা বলেছেন আক্রম।
অবসর নেওয়ার পরে ঠাসা ক্রীড়াসূচি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্টোকস। তিনি বলেছিলেন, অত্যধিক ধকলের ফলেই তাঁর পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা সম্ভব নয়। সেই সুরেই আক্রম বলেছেন, “শুধুমাত্র খেলতে হয় বলেই মাঠে নামছেন ক্রিকেটাররা। বাঁধাধরা কিছু নিয়ম বানিয়ে ফেলেছে ক্রিকেটাররা। প্রথম দশ ওভার কেটে গেলেই ওভার প্রতি ছয় রান করে তুলতে চেষ্টা করে। তারপর শেষের দশ ওভারে ব্যাট চালাতে থাকে, যতটা রান করা সম্ভব। গড়পড়তা ভাবেই খেলছে ক্রিকেটাররা।”
[আরও পড়ুন: ‘ভাল মডেল হতে পারবে, কোটি টাকা কামাবে’, কোন ভারতীয় ক্রিকেটারের কথা বললেন শোয়েব?]
কমেন্টেটর হিসাবেও এই ফরম্যাট উপভোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আক্রম। তিনি বলেছেন, “চার ঘণ্টায় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটের একদিনে একশো ওভার খেলা হয়। তারপরে ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে বিশ্লেষকের কাজ করতে হয়।” সব মিলিয়ে ওডিআই ক্রিকেটের (One Day Cricket) সঙ্গে যুক্ত থাকা খুবই কষ্টকর বলে মনে করছেন আক্রম।
ভবিষ্যতের ক্রিকেট বলতে সাধারণ মানুষ টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট ক্রিকেটকেই বুঝবেন। আক্রম বলেছেন, “ইংল্যান্ডে হয়তো ওয়ানডে ক্রিকেট দেখতে মাঠে আসবেন। কিন্তু ভারত, পাকিস্তান-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে মানুষ ওয়ানডে ক্রিকেট দেখতে গ্যালারি ভরাবেন না। সেই কারণেই আমার মনে হয়, ক্রিকেট ক্যালেন্ডার থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটকে একেবারে ছেঁটে ফেলা হোক।” সেই সঙ্গে তাঁর মত, টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমেই একজন ক্রিকেটারের প্রতিভার সুবিচার করা যায়।
বেন স্টোকসের সঙ্গে সহমত হয়ে তিনি বলেছেন, স্টোকসের অবসর নেওয়া খুবই দুঃখজনক। কিন্তু লাগাতার ক্রিকেট খেলতে থাকলে একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে সত্যিই খুব কঠিন হয়ে যায়। সেই কারণেই ক্রিকেট প্রশাসকদের কাছে আক্রমের আবেদন, কম পরিমাণে ম্যাচ খেলানো হোক দলগুলিকে।
[আরও পড়ুন: কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গলের কোচ হতে চলেছেন সন্তোষ জয়ী বিনো জর্জ]
Source: Sangbad Pratidin
