ট্যাটুর নেশা, চোখের সর্বনাশ! বিরল রোগ নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

কেউ শখে, কেউ নিজের পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে, কারও কাছে শুধুই ফ্যাশন, আবার কারও কাছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম। ট্যাটু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ বলে ধরা হলেও সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া এক গবেষণা নতুন করে ভাবাচ্ছে। ত্বকে করা এই শিল্পকর্ম নাকি চোখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে! গবেষণায় বলা হয়েছে, খুবই বিরল হলেও ট্যাটুর কারণে চোখে একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার নাম ইউভাইটিস।
ইউভাইটিস আসলে কী?
ইউভাইটিস হল চোখের ভেতরের একটি অংশে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ। এই অংশটি চোখের স্বাভাবিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সমস্যা হলে চোখ লাল হওয়া, ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা আলোতে অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় চোখের সামনে ভাসমান দাগও দেখা যায়। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
ট্যাটুর সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে যে, ত্বকে করা ট্যাটু কীভাবে চোখে প্রভাব ফেলে। আসলে এর মূল কারণ শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম। ট্যাটু করার সময় কালি ত্বকের ভেতরে ঢোকে। শরীর এই কালি বা পিগমেন্টকে বাইরের বস্তু হিসেবে চেনে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া শুরু করে। এই প্রতিক্রিয়া সাধারণত ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সেই প্রতিক্রিয়া শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোখের ভিতরেও দেখা দিতে পারে প্রদাহ। অনেক সময় দেখা গেছে, ট্যাটু করার বহুদিন পরেও এই সমস্যা হঠাৎ করে শুরু হচ্ছে।
ইউভাইটিস। ছবি: সংগৃহীত
কারা একটু বেশি ঝুঁকিতে?
সবাই এই সমস্যায় ভোগেন না, এটি খুবই বিরল। তবে কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন, খুব বড় ট্যাটু করালে বা কালি বেশি ব্যবহার করা হলে সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আবার যাদের আগে থেকেই ইমিউন সিস্টেমের কোনও সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা ভালো। এছাড়া কিছু ট্যাটুর কালিতে ক্ষতিকর ধাতু থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
কতটা চিন্তার বিষয়?
এই সমস্যা এখনও খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এর একটি কারণ হতে পারে, এখন চিকিৎসকরা বিষয়টি জানেন বলে সহজে শনাক্ত করতে পারছেন।
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা ও সতর্কতা
এই সমস্যার চিকিৎসা রয়েছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দ্রুত লক্ষণ চেনা। চোখে ব্যথা, লালভাব, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা আলোতে অস্বস্তি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ট্যাটু মোটের উপর নিরাপদ হলেও শরীরের যে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সচেতন থাকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *