প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পেয়ে গর্জে উঠেছিলেন রাজগঞ্জ বিধানসভার চারবারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। হুমকি দিয়েছিলেন তৃণমূল থেকে পদত্যাগের। কিন্তু ‘দিদি’ মমতার (Mamata Banerjee) একটা ফোনেই সব অভিমান ভুললেন খগেশ্বর। বললেন, ”আবেগ তাড়িত হয়ে কিছু কথা বলেছিলাম। কিন্তু পদত্যাগ পত্র জমা দিইনি। দলে ছিলাম। দলেই থাকব।” এমনকী রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের সমর্থনে ময়দানে নামারও কথা জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা। ভোটের মুখে সব জল্পনা উড়িয়ে খগেশ্বর রায়ের দলীয় প্রার্থীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসে অনেকটাই স্বস্তিতে তৃণমূল শিবির।
২০০৯ সাল থেকে টানা জলপাইগুড়ি রাজগঞ্জ বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়ে আসছেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার কনভেনর খগেশ্বর। এবারও তাঁকেই প্রার্থী করা হবে একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন সকলেই। কিন্তু মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা দেখা, রাজগঞ্জ আসনে খগেশ্বর রায়কে নয়, প্রার্থী করা হয়েছে এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে। তা জানা মাত্রই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন খগেশ্বর। তিনি বলেন, “দলের কাছ থেকে এই আঘাত প্রত্যাশা করিনি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকে দলের হয়ে লড়াই করছি। ২০০৯ সালে উত্তরবঙ্গে বাম দুর্গে আমিই প্রথম ফাটল ধরাই।” তাঁর কথায়, “টাকার কাছে হেরে গেলাম।” আর এহেন মন্তব্য ঘিরেই তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। অস্বস্তিতে পড়ে যায় শাসকদল তৃণমূল।
এই পরিস্থিতিতে ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ককে নিজে ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেই ফোনেই সব অভিমান, রাগ একেবারে গলে জল। এরপরেই এদিন নিজের বাড়িতেই সাংবাদিক বৈঠক করে খগেশ্বর রায় বলেন, ”আমি ভাগ্যবান, দিদি আমার সঙ্গে কথা বলেন। পাশে থাকার বার্তা দেন।” বিধায়কের কথায়, সেই সময় আমার চোখে জল এসে গেছিল। আবেগ তাড়িত হয়ে যে বেশ কিছু বলার জন্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি। বলে রাখা প্রয়োজন, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিনই নেতৃত্বকে বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যাঁদের টিকিট দিতে পারেনি তাঁরা যেন ভুল না বোঝেন। এমনকী তাঁদের পার্টির অন্য কাজে লাগানো হবে বলেও জানান তিনি। এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ৭৪ জন বিধায়ক বাদ পড়েছেন। সেই তালিকাতেই রয়েছেন রাজগঞ্জ বিধানসভার চারবারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়।
Source: Sangbad Pratidin
