কলকাতা নাইট রাইডার্সের কর্তাব্যক্তিরা বারবার বলেন, এটা সাধারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়। এটা পরিবার। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কেকেআরের আত্মিক যোগ। যে কারণে প্রতি বছর নিলামে একটা চমকপ্রদ ব্যাপার দেখা যায়। সেটা হল যেখানে অন্য দলের ক্রিকেটাররা রিটেন হওয়ার জন্য বোর্ডের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ সীমার চেয়েও বেশি টাকা দাবি করেন, সেখানে কেকেআর তারকারা অনেক কম টাকায় রাজি হয়ে যান। গত মরশুমেই ধরা যাক না, আরসিবি, সানরাইজার্সের মতো দল যেখানে দলের সেরা তারকাদের রিটেন করতে ২১ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে, সেখানে কেকেআর নিজেদের সেরা তারকাদের রিটেন করেছে মাত্র ১৩ কোটি টাকায়।
এত কথা কেন বলা হচ্ছে? আসলে শুধু রিটেনশনের ক্ষেত্রে নয়। অনেক ক্রিকেটারকেই চুক্তি না থাকলেও সাহায্য করে নাইটরা। চোটের পর যেভাবে কমলেশ নাগারকোটি, চেতন সাকারিয়া, শিবম মাভিদের কেকেআর লোকচক্ষুর আড়ালে সাহায্য করেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। দল থেকে বিদায় নেওয়ার পরও ক্রিকেটারদের দেখভাল করে কেকেআর। এবার তেমনই একজনকে নতুন করে চাকরি দিল নাইটরা। একজন চরিত্র। যাঁকে গত দু’দিন ধরে নাইট সংসারে ক্রমাগত দেখা যাচ্ছিল। কেকেআরের প্রথম আইপিএল ফাইনালের মহানায়ক যিনি। মনবিন্দর বিসলা।
কেকেআরের জার্সিতে বেশ কয়েকটি মরশুম খেলেছেন এই উইকেটরক্ষক ওপেনার। এমনিতে যে নাইট জার্সিতে তাঁর সাফল্য বা অর্জন বিরাট, তেমন বলা যাবে না। কিন্তু এই বিসলাকে কেকেআর মনে রাখবে একটা ম্যাচের জন্যই। সেটা ২০১২ আইপিএলের ফাইনাল। ৪৮ বলে ৮৯ রানের সেই মহানায়োকচিত ইনিংসে কেকেআর ভক্তদের মনের মণিকোঠায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছেন বিসলা। ওইদিন বিসলা জ্বলে না উঠলে হয়তো অন্যরকমভাবে লিখতে হত নাইট ইতিহাস। অথচ ইদানিং ক্রিকেটমহল থেকে একপ্রকার হারিয়ে গিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন সেভাবে দেখা পাওয়া যায়নি তাঁর।
সেই বিস্মৃত নায়ককে এবার নতুন ভূমিকায় নিয়োগ করল নাইটরা। হেড অফ স্কাউট। অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করাটা তাঁর কাজ। এই স্কাউটিং করেই বহু তারকাকে তুলে এনেছে কেকেআর। তবে এই কাজে সিদ্ধহস্ত মুম্বই। এবার কেকেআরও চায় আরও প্রতিভা তুলতে। সেই গুরুদায়িত্ব বিসলার কাঁধে।
Source: Sangbad Pratidin
