‘প্রত্যেক রক্তবিন্দুর দাম দিতে হবে’, খামেনেইয়ের ‘ডানহাতে’র মৃত্যুর বদলা নিতে হুঙ্কার মোজতবার

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার বার্তা দিলেন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানির মৃত্যুর বদলা নেবে তেহরান। লারজানির রক্তের দাম মেটাতে হবে, হুঙ্কার মোজতবার। এহেন হুঁশিয়ারির পর ইজরায়েলের উপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়াবে ইরান, এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রথমবার বার্তা দিয়েছিলেন মোজতবা। সেখানে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। বুধবার আবারও কড়া ভাষায় বার্তা দিলেন তিনি। ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিরাপত্তা প্রধান লারজানির মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার। সেই হামলার পালটা জবাব দেবে ইরান, এমনটাই হুঁশিয়ারি মোজতবার। বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এমন নাশকতামূলক কাজকর্ম থেকেই বোঝা যায় শত্রুরা কতখানি নৃশংস। তবে এই ঘটনায় আরও শক্তিশালী হবে ইরান। শহিদদের রক্তের দাম চোকাতে হবে হত্যাকারীদের।’ লারজানির ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন মোজতবা। বিবৃতিতে সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁর পরিবারকে।
উল্লেখ্য, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর লারজানিই আমেরিকা-ইজরায়েলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে তাঁর অঙ্গুলি হেলনেই হামলা চালাচ্ছিল তেহরান। মঙ্গলবার তাঁর উপর ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। বুধবার লারজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরান। তারপর ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেন, “কোনও একজন ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে না। লারজানির অবর্তমানে ইজরায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে ইরান।”
প্রসঙ্গত, গত ১৯ দিন ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হানায় কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। বুধবার ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতভর হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের গুপ্তচর মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিবৃতি দেয়নি ইরান। লারজানি ছাড়াও ইরান সেনার আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির মৃত্যু হয়েছে বলেই খবর। তবে ইরানও লাগাতার আক্রমণ করে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *