ইদের আগে চটজলদি মেহেন্দিতে হাত রাঙাচ্ছেন! আনন্দ মাটি হওয়ার আগে সতর্ক হোন

উৎসবের মরশুম। ইদের চাঁদ দেখা দিলেই খুশির জোয়ারে ভাসেন সকলে। নতুন জামাকাপড় আর হরেক পদের রান্নার পাশাপাশি অপরিহার্য হল মেহেন্দি। চাঁদরাতে হাত ভর্তি মেহেন্দির নকশা না থাকলে যেন সাজটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু হাতের সেই শখের রঙই ডেকে আনতে পারে ঘোর বিপদ। মেহেন্দির মোড়কে বাজারে রমরমিয়ে বিকোচ্ছে রাসায়নিক বিষ। ৫ মিনিটে মেহেন্দির রং হবে গাঢ়। রঙের টানে সেই বিষ হাতে মাখলেই হতে পারে মারাত্মক চর্মরোগ।
ফাইল ছবি
চিকিৎসকদের মতে, প্রাকৃতিক মেহেন্দি থেকে গাঢ় রং পেতে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু এখন বাজারে এমন কিছু ‘ইনস্ট্যান্ট’ মেহেন্দি পাওয়া যায়, যা নিমেষেই রং ধরিয়ে দেয়। এই ধরনের মেহেন্দিতে মেশানো থাকে পিপিডি বা প্যারা-ফেনাইলেনেডিয়ামিন। এটি মূলত চুলের রঙে ব্যবহৃত এক রাসায়নিক। যা সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের পাতলা ও সংবেদনশীল ত্বকে এর প্রভাব আরও ভয়ংকর। এই রাসায়নিকের প্রভাবে ত্বকে অসহ্য চুলকানি এবং লাল চাকা চাকা দাগ হতে পারে। অনেক সময় হাত ফুলে ফোস্কাও পড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কেমিক্যাল বার্ন’। যা অনেক সময় স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে।
তাই উৎসবের আনন্দ অটুট রাখতে কিছু সতর্কতা জরুরি। মেহেন্দি কেনার আগে তার গন্ধ পরখ করে দেখা দরকার। মেহেন্দির ভেষজ গন্ধের বদলে যদি ঝাঁঝালো ওষুধের মতো গন্ধ পান, তবে বুঝবেন তাতে রাসায়নিক মেশানো আছে। সরাসরি হাতে লাগানোর আগে কানের পেছনে বা কনুইয়ে সামান্য মেহেন্দি লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত। একে বলা হয় ‘প্যাচ টেস্ট’। কোনও জ্বালাপোড়া বা চুলকানি না হলে তবেই সেটি ব্যবহার করা নিরাপদ। মেহেন্দির টিউব কেনার সময় মেয়াদের তারিখ অবশ্যই যাচাই করে নিন।
ছবি: প্রতীকী।
রং গাঢ় করার সহজ প্রাকৃতিক পদ্ধতিও রয়েছে। লেবু-চিনির জল বা শুকনো খোলায় লবঙ্গ সেঁকে তার ধোঁয়া নিলে রঙ টেকসই হয়। এতে ত্বকও সুরক্ষিত থাকে। মেহেন্দি লাগানোর পর যদি সামান্যতম অস্বস্তি বা জ্বালা শুরু হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত। জায়গায়টি বেশি ঘষবেন না। ফুসকুড়ি বা ফোস্কা দেখা দিলে বাড়িতে চিকিৎসা না করে সরাসরি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, একদিনের সাজের চেয়ে শরীর সুস্থ রাখা অনেক বেশি মূল্যবান।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *