ইচ্ছামতো সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট মোছার ক্ষমতা মোদি সরকারের! ভোটের মুখে নতুন কড়াকড়ির পথে কেন্দ্র

চার রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় জোরদার প্রচার করছে সব দলই। এহেন পরিস্থিতিতে সূত্রের খবর, সমাজমাধ্যমে আরও কড়াকড়ি আনতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সোশাল মিডিয়ার কোনও কন্টেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা কেবলমাত্র রয়েছে ইলেকট্রনিক্স এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রকের হাতে। কিন্তু আগামী দিনে এই ক্ষমতা অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও তুলে দেওয়া হতে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন তথ্য এবং সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বৈষ্ণব জানিয়েছেন, নানা মন্ত্রক থেকে আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বিশেষ দল। আপাতত ওই দল একটি প্রস্তাব তৈরি করছে। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য, সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো এবং ক্ষতিকারক পোস্ট ব্লক করা। ব্লক করার অধিকার অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও কীভাবে তুলে দেওয়া যায়, সেটাই বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে ওই প্রস্তাবে। অশ্বিনী জানিয়েছেন, সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়া রুখতে ব্লক করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই ব্লকিংয়ের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করলে ক্ষতিকর কন্টেন্ট রুখে দেওয়া আরও সহজ হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষতিকারক কন্টেন্টের নামে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্টগুলি ব্লক করা হবে না তো? সোশাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে না তো?
ডিপফেক ভিডিওগুলির উদাহরণ টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সোশাল মিডিয়ায় পাওয়া কন্টেন্টগুলি যাচাই না করেই শেয়ার করে ফেলেন আমজনতা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে ওই কন্টেন্টগুলির সত্যতা যাচাই করে ব্লক করার নির্দেশ দেয়। সেই ক্ষমতা যদি অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও থাকে তাহলে ভুয়ো পোস্টগুলি দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে। সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো কন্টেন্ট ছড়ানোর মাত্রাও অনেকখানি কমবে। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আইটি অ্যাক্ট সংশোধন না করেই যেন অন্যান্য মন্ত্রকের হাতে পোস্ট ব্লক করার ক্ষমতা তুলে যায়, সেটাই চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষতিকারক কন্টেন্টের নামে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্টগুলি ব্লক করা হবে না তো? নতুন প্রস্তাবে আইটি অ্যাক্টের সেরকম গুরুত্ব থাকবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলে পোস্ট ব্লক করার মাত্রাও বাড়বে। প্রশাসনিক নিয়মের অপেক্ষা না করেই প্রত্যেকটি মন্ত্রক স্বাধীনভাবে পোস্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আরও বেশি করে পরীক্ষা করা হবে পোস্টগুলি। সোশাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে না তো? থাকছে সংশয়।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *