নুন আনতে পান্তা ফুরায় অর্থনীতি! দু’বেলা দু’মুঠো জোটে না বহু মানুষের। দোসর হয়েছে ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট। এই অবস্থায় ইসলামাবাদ জানিয়ে দিল— ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজ হবে না সে দেশে। নেপথ্যে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে দেশটিতে তেল, রান্নার গ্যাসের সঙ্কট। একদিকে যখন ‘পাকিস্তান দিবসে’ কুচকাওয়াজ করার সামর্থ নেই ইসলামাবাদের, অন্যদিকে তারাই আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। শাহবাজ শরিফের সেনা কাবুলের একটি হাসপাতাল বোমা ফেলায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বদলা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে কাবুল।
জ্বালানি সংকটের জেরে আগামী ২৩ মার্চ রাজপথে যে কুচকাওয়াজে হবে না, এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দপ্তর। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে— “উপসাগরীয় তেল সংকট এবং ফলস্বরূপ সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত ব্যয় সংকোচন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য পাকিস্তান দিবসের কুচকাওয়াজ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তবে জাঁকজমকহীন ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানটি হবে। উপস্থিত থাকবেন কিছু মন্ত্রী ও আমলা।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে একটি বৈঠকে মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ গঠনের দাবিতে প্রস্তাব পাশ করেন মুসলিম লীগের তৎকালীন নেতারা। সেই ঘটনার স্মরণে এখনও ওই দিন সামরিক কুচকাওয়াজ হয় পাকিস্তানে। সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাপক জ্বালানি সংকটের মধ্যে পড়েছে পাকিস্তান। যেহেতু যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকেই তারা তেল আমদানি করে।
এই অবস্থায় পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে, স্কুলগুলি ৯ মার্চ থেকে পরবর্তী ১৫ দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হবে শুধুমাত্র অনলাইন ক্লাস। সরকারি দপ্তরগুলি সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। যে দিনগুলিতে সরকারি দপ্তরগুলি খোলা থাকবে, সে দিনগুলি ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করবেন।
Source: Sangbad Pratidin
