ভুপেন বোরার পর এবার প্রদ্যোত বরদলুই। ভোটের মুখে অসমে কংগ্রেস ছাড়লেন আরও এক বর্ষীয়ান নেতা। একদিন আগেই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন, বুধবার হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখালেন নগাঁও-য়ের বর্তমান সাংসদ। গত লোকসভা ভোটে অসমে কংগ্রেসের মাত্র ৩ জন সাংসদ জিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রদ্যোত। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে আগে দল ছাড়লেন তিনি।
প্রদ্যোত বহু পুরনো কংগ্রেসি। চারবার বিধায়ক ছিলেন। তরুণ গগৈ মন্ত্রিসভায় ১৫ বছর মন্ত্রী ছিলেন। অসম যুব কংগ্রেস, ছাত্র সংগঠন এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। ভোটের মুখে আচমকা তাঁর দলত্যাগ কংগ্রেসের জন্য রীতিমতো ধাক্কা। মঙ্গলবার মল্লিকার্জুন খাড়গে-কে চিঠি দিয়ে তিনি দলের অন্দরের কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। একদিন পর অর্থাৎ বুধবারই তিনি হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। হিমন্তর কথায়, “কংগ্রেসে আত্মসম্মানবোধ থাকা লোকের জায়গা নেই। আমরা আরও কংগ্রেস নেতাকে দলে টানব। প্রদ্যোতকে বিধানসভায় প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।”
হিমন্তর কথায়, “কংগ্রেসে আত্মসম্মানবোধ থাকা লোকের জায়গা নেই। আমরা আরও কংগ্রেস নেতাকে দলে টানব। প্রদ্যোতকে বিধানসভায় প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।”
কিন্তু কেন দল ছাড়লেন প্রদ্যোত? প্রকাশ্যে তিনি অসমে দলের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগ, প্রদ্যোতের উপর গত পঞ্চায়েত নির্বাচন চলাকালীন হামলা চালান কংগ্রেসেরই এক বিধায়ক। তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও সেই বিধায়ককে টিকিট দিয়েছে দল। সেকারণেই তাঁর দলত্যাগের সিদ্ধান্ত। যদিও দলের অন্দরে কানাঘুষো ভুপেন বোরার মতোই, তিনিও দলে গৌরব গগৈয়ের উত্থান মানতে পারছেন না। গৌরবের অধীনে কাজ করতে আপত্তির জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
প্রদ্যোতের দলত্যাগ যে ধাক্কা মানছে কংগ্রেসও। খোদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলছেন, “প্রদ্যোত বরদলুয়ের দলত্যাগ দুর্ভাগ্যজনক। সম্ভবত উনি টিকিট বণ্টন নিয়ে অখুশি ছিলেন। তবে এসব নিয়ে পদত্যাগের আগে কথা বলার সুযোগ পেলে ভালো লাগত।”
Source: Sangbad Pratidin
