সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে ফুরফুরা শরিফে হাজির হলেন ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। সেখানেই নাম না করে শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। বহিষ্কার ও জেলে পাঠানো নিয়েই উষ্মাপ্রকাশ করলেন তিনি। দল ছাড়ার কথা ঘোষণার পরই আরাবুলের ফুরফুরা শরিফ সফরেই ওয়াকিবহল মহল কার্যত নিশ্চিত, এবার আইএসএফের পথে আরাবুল। এবিষয়ে নওশাদ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, আরাবুল তাঁর সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
তৃণমূলের সঙ্গে আরাবুলের সম্পর্ক অম্ল-মধুর। একসময়ে ভাঙড় দাপিয়ে বেড়ানো ‘তাজা নেতা’ কলেজ শিক্ষিকার মাথায় জগ ছুড়ে মারার মতো গুরুতর কাজের জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় তৃণমূল। দলে ফিরে ফের দাপট দেখাতে শুরু করেন আরাবুল ইসলাম। ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় কার্যত আরাবুলেরই ‘শাসন’ চলত। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে নানা ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়ান আরাবুল। দল এনিয়ে বারবার সতর্ক করলেও তা কানে তোলেননি তিনি। বছর তিন আগে পঞ্চায়েত ভোটে এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ গ্রেপ্তার হন আরাবুল। পরে অবশ্য জামিনে ছাড়া পেয়ে সমর্থকদের ‘আপ্যায়ণে’, মালা পরে ভাঙড়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু শওকতের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব ঘোচেনি। এবার বিধানসভা ভোটের আগে আরাবুলের অভিযোগ, তিনি দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সমস্ত আন্দোলনে শামিল হওয়ার পর দল ইদানিং তাঁকে ব্রাত্য করে দিয়েছে। তাই মনের দুঃখে তিনি তৃণমূল ছাড়ার কথা ভাবছেন বলেও জানা গিয়েছিল।
দলবদল নিয়ে জল্পনার মাঝেই সোমবার দুপুরে ফুরফুরা শরিফে হাজির হন আরাবুল। সেখানে তৃণমূল প্রসঙ্গে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, একজনের প্ররোচনায় (মনে করা হচ্ছে, নিশানায় শওকত মোল্লা) আমাকে তিনবার বহিষ্কার করা হয়েছে, জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, যদি বহিষ্কারই করা হবে তাহলে জেলে পাঠানো হল কেন?
দলবদল নিয়ে জল্পনার মাঝেই সোমবার দুপুরে ফুরফুরা শরিফে হাজির হন আরাবুল। সেখানে তৃণমূল প্রসঙ্গে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, একজনের প্ররোচনায় (মনে করা হচ্ছে, নিশানায় শওকত মোল্লা) আমাকে তিনবার বহিষ্কার করা হয়েছে, জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, যদি বহিষ্কারই করা হবে তাহলে জেলে পাঠানো হল কেন? আইএফএফে যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তা স্পষ্ট করেননি আরাবুল। তবে তাঁর ফুরফুরা শরিফে যাওয়াতেই মোটের উপর নিশ্চিত যে, ছাব্বিশের নির্বাচনে নওশাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটের ময়দানে দাপিয়ে বেড়াবেন আরাবুল। যদিও তাঁর এই দলবদলের জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল।
Source: Sangbad Pratidin
