দুঃস্থ শিশুদের জন্য খুলল প্রাইভেট স্কুলের দরজা, শিক্ষায় নয়া নজির যোগীরাজ্যে

দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপ করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। শিক্ষার অধিকার আইনের (আরটিই) আওতায় রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলির দরজা খুলে গেল লক্ষাধিক দুঃস্থ ও পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীর জন্য। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিশেষ উদ্যোগে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লটারির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৫৬ হাজারেরও বেশি শিশু নামী বেসরকারি স্কুলে পঠনপাঠনের সুযোগ পেয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এবারের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার লটারিতে আরও ৪৭ হাজার শিশু ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করেছে। এর ফলে সমাজের আর্থিক ভাবে দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানরা গুণমানসম্পন্ন শিক্ষার আঙিনায় প্রবেশের ছাড়পত্র পেল।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্য হল, শিক্ষা যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে সমান ভাবে পৌঁছয়। সেই উদ্দেশ্যেই বেসরকারি স্কুলগুলিতে সংরক্ষিত আসনে এই ভর্তির প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, আবেদনপত্র যাচাই থেকে শুরু করে লটারি— সবটাই হয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতিতে, যাতে কোনও প্রকার দুর্নীতির অবকাশ না থাকে।
পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের বেশ কিছু জেলা এই লটারিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ভর্তির সংখ্যার নিরিখে তালিকার শীর্ষে রয়েছে রাজধানী লখনউ। এখানে দুই দফার লটারি মিলিয়ে মোট ১৫,৫৮৬ জন শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছে। এর পরেই রয়েছে কানপুর নগর এবং বারাণসী। কানপুরে ৮,৯৫০ জন এবং বারাণসীতে ৮,১২৯ জন শিশু বেসরকারি স্কুলের আইডিতে নাম লিখিয়েছে। এছাড়াও আগ্রা, মোরাদাবাদ, আলিগড় এবং বুলন্দশহরের মতো জেলাগুলিতে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে।
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, লখনউয়ের পরেই আগ্রায় ৬,৭৬০ এবং মোরাদাবাদে ৫,৯৭০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। মিরাট ও গাজিয়াবাদেও প্রায় পাঁচ হাজার করে শিশু এই সুযোগ পেয়েছে। প্রশাসনের আশা, আগামী পর্যায়ের ভর্তি প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ হবে, যার ফলে আরও অনেক যোগ্য শিশু শিক্ষার অধিকার পাবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে চাইছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *