মমতার মাস্টারস্ট্রোকে বিপাকে বিজেপি! মঙ্গলে পদ্মের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

অস্বস্তি। একদিকে ব্রিগেডে সভা ডেকেও সেই ভিড় না হওয়ার চাপ এবং সেখানে রাজ্যের জন্য কোনও ঘোষণাই না করে কিছু গোল গোল কথা বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উড়ে যাওয়া, অথচ ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিএ-সহ নানা ভাতা ঘোষণার মাস্টারস্ট্রোক, বিপাকে বঙ্গ বিজেপি। পাশাপাশি কমিশন সব জায়গায় একদিনে ভোট চাইলেও বঙ্গে দু’দিনের নির্বাচন ঘোষণা করে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলে দিল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। তবে দু’দফার ভোটকে স্বাগত জানিয়ে ডিএ ঘোষণাকে ভোটের মুখে রাজনৈতিক চমক বলে দাবি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “আদতে রাজ্য সরকার তার কর্মীদের প্রাপ্য কোনও টাকা দিতে চায় না। বরং কর্মীরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রতারণার শিকার।”
রাজ্যে পুরনো বিধায়কদের প্রায় সকলেই টিকিট পাচ্ছেন। তবে বাদ যাচ্ছেন খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ। কিন্তু পাহাড়ের কার্শিয়াং ও কালিম্পং নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দল। তা নিয়ে রবিবারও আলোচনা হয়। দার্জিলিংয়ে অবশ্য ফের জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বাকে সমর্থনের ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে পাহাড়ের তিনটি আসনেই অনীত থাপার ফল বিজিপিএম একাই লড়বে বলে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর নামে দেওয়াল লিখনও শুরু হয়েছে।
ভোট ঘোষণা হতেই সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসে বঙ্গ বিজেপি। শমীক-শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন সুকান্ত মজুমদার, ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনশল। দলীয় সূত্রে খবর, দিল্লিতে আগেই ১৫৫টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ১৩৯টি নিয়ে আজ সোমবার ফের বৈঠকে বসবে দল। প্রাথমিকভাবে খবর, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, শংকর ঘোষদের মতো নেতাদের আসন চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার প্রথম তালিকা প্রকাশ হতে পারে। তার আগে সোমবার ফের দিল্লিতে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের তালিকা পুরোটাই শুভেন্দু দেখছেন। সেখানে কাঁথির একটি আসনে শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু, চণ্ডীপুরে শঙ্কুদেব পন্ডা, তমলুকে প্রাত্তন বিধায়কের পুত্র এক চিকিৎসকের নাম প্রায় ঠিক হয়ে রয়েছে। হলদিয়ায় পাঠানো হচ্ছে রাজ্য দপ্তরে আইটি সেলের এক নেতাকে, যাঁকে নিয়ে সেখানে মণ্ডল কমিটির আপত্তি রয়েছে। কিছুটা নারাজ সংঘ পরিবারও।
রাজ্যে পুরনো বিধায়কদের প্রায় সকলেই টিকিট পাচ্ছেন। তবে বাদ যাচ্ছেন খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ। কিন্তু পাহাড়ের কার্শিয়াং ও কালিম্পং নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দল। তা নিয়ে রবিবারও আলোচনা হয়। দার্জিলিংয়ে অবশ্য ফের জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বাকে সমর্থনের ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে পাহাড়ের তিনটি আসনেই অনীত থাপার ফল বিজিপিএম একাই লড়বে বলে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর নামে দেওয়াল লিখনও শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তাঁরা ভোটের জন্য তৈরি এবং ক্ষমতায় এলে নবান্ন নয়, রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরকার চলবে বলে দাবি করেন, “নতুন সরকার এলে রাজ্যে কর্মসংস্থান হবে, পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরবেন। এখানেই কাজ পাবেন। সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশন মেনে ডিএ পাওয়া শুরু হবে। অন্নপূর্ণা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে মাসে দেওয়া হবে।” রাজ্যে কেন দু’দফায় ভোট, তা নিয়ে শমীকের প্রতিক্রিয়া, “একদফায় ভোট হলে হয়তো কিছু মানুষ খুশি হতেন, তা হল না।’

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *