পড়ে থাকা বিল ছাড়বেন আনন্দ বোস? পাঞ্জাবের রাজ্যপালকে সুপ্রিম ভর্ৎসনার পরই জল্পনা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভায় পাশ করানো বিল অনন্তকাল আটকে রাখা যায় না। একদিক আগেই পাঞ্জাবের রাজ্যপালকে বিল আটকে রাখার ‘অপরাধে’ কার্যত তুলোধোনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তিরস্কারের সুরে পাঞ্জাবের রাজ্যপাল বনওয়ারিলাল পাটোয়ারীকে শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। রাজ্যপালেরা অনন্তকাল বিল আটকে রাখতে পারেন না। রাজ্যপালদের নিয়ে শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া ২২টি বিল রাজভবনে আটকে। প্রশ্ন হচ্ছে, পাঞ্জাবের রাজ্যপালকে সুপ্রিম তিরস্কারের পর এরাজ্যের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose) কি সবকটি বিলে ছাড়পত্র দেবেন? সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মঙ্গলবার স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বিলগুলি ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Biman Banerjee)। তিনিও বলছেন, রাজ্যপাল অনন্তকাল বিল আটকে রাখতে পারেন না।
[আরও পড়ুন: এলাহাবাদ, ফৈজাবাদের পর এবার আলিগড়! যোগীরাজ্যে তুঙ্গে নাম বদলের রাজনীতি]
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “এই বিল আটকে রাখা নিয়ে আমাদের অল ইন্ডিয়া স্পিকারস কমিটির বৈঠকে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। রাজ্যপালের কাছে কোনও বিল পাঠানো হলে তিনি তিনটি কাজ করতে পারেন। হয় বিলে মঞ্জুরি দিতে পারেন, অথবা কিছু পরামর্শ দিয়ে তা ফেরত পাঠাতে পারেন অথবা সেটাকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে পারেন। এক্ষেত্রে ছয় মাসের মধ্যে উনি বিলটি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করলে ধরে নিতে হবে বিলটি পাস হয়ে গিয়েছে।”
[আরও পড়ুন: ভোট ভুলে বিষ গ্যাসেই ডুবে ভোপাল! আজও সুস্থ শিশুর জন্ম বিরল]
মোট কথা রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস এখন সার্বিকভাবে চাপের মুখে। রাজ্য মনে করছে, চাপের মুখে পড়ে রাজ্যপাল এবার বিলগুলি ছেড়েও দিতে পারেন। আটকে থাকা বিলগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হাওড়া ও বালি পুরসভাকে একত্রিত করার ২ বিল, মুখ্যমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা সংক্রান্ত আটটি বিল। এছাড়াও আটকে রয়েছে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত সার্চ কমিটি নিয়ে বিল। এরই মধ্যে খবর, আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরু হবে। চলবে ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *