মহানবমীতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা বাংলাদেশে, মৃত কমপক্ষে ১৬

সুকুমার সরকার, ঢাকা: উৎসবের মাঝেই বিষাদের সুর বাংলাদেশে (Bangladsh)। যাত্রীবাহী ট্রেনে মালগাড়ির ধাক্কায় মৃত অন্তত ১৬। জখম আরও প্রায় ৫০। সোমবার দুপুর সোয়া তিনটে নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশেক কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালবাহী ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী ট্রেনটি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঢাকা থেকে ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। ভৈরবের আউটার পয়েন্টের কাছে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের শেষ দুটো কামরায় ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। সঙ্গে সঙ্গে বগি দুটি উলটে যায়। আটকে পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান।
[আরও পড়ুন: বিড়ি না দেওয়ার শাস্তি! অষ্টমীর রাতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ‘খুন’ মুর্শিদাবাদে]
ইতিমধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে ট্রেনের উলটে যাওয়া বগির নিচে অনেকে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তাঁদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য চলছে। জখম অন্তত আরও ৫০ জন। ভৈরব জিআরপি থানার ওসি আবদুল আলিম জানান, এপর্যন্ত ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্ঘটনার পর ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন দমকল বিভাগের কর্মীরা। আহতদের বাজিতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদেকুর রহমান সবুজ জানান,দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসেছে দমকল বিভাগের কর্মীরা। এছাড়া উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে একটি কন্টেইনারবাহী ট্রেন ভৈরব স্টেশনে প্রবেশ করছিল। তার একটু আগে ভৈরব থেকে এগারসিন্দুর ট্রেন ঢাকার দিকে রওনা হয়। জগন্নাথপুর রেল ক্রসিং এলাকায় এগারসিন্দুর ট্রেনের শেষের চারটি বগিতে কন্টেইনারবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে সিগন্যালিংয়ের কোনও জটিলতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এদিকে দুর্ঘটনায় তিন‌টি ব‌গি উল্টে যাওয়ায় সেগু‌লো ক্রেন ছাড়া সরা‌নো সম্ভব হ‌চ্ছে না। উদ্ধার কাজে যোগ দিতে ঢাকা ও আখাউড়া থে‌কে ক্রেন রওনা দি‌য়ে‌ছে।
[আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’, কতটা প্রভাব পড়বে উৎসবমুখর বাংলায়?]

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *