‘প্রেমের ফাঁদ পাতা’…. ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা যুবতীর

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই কবে বলে গিয়েছেন, ‘প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে, কে জানে।’ যার প্রতিফলন ঘটছে বর্তমান দিনেও। স্মার্ট ফোন, সোশাল মিডিয়া, বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপের দৌলতে প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণা করা এখন যেন জলভাত। যেরকম ফাঁদ পেতেছিলেন দিল্লির এক যুবতী। গত মাস দুয়েক ধরে প্রেমের জালে জড়িয়ে ১০ জনের থেকে ৩০ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আপাতত তাঁর ঠাঁই হয়েছে গরাদের পিছনে। গ্রেপ্তার নেওয়া হয়েছে তাঁর দুই সঙ্গীকেও।       
জানা গিয়েছে, দিল্লির (Delhi) এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সুরভি গুপ্ত নামে ওই যুবতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগকারী জানান, একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপে (Online Dating App) তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় সুরভির। সেই পরিচয় গড়ায় বন্ধুত্বে। তার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন অভিযুক্ত যুবতী। সেইমতো তাঁরা একটি পানশালায় দেখা করেন। সেখান থেকে সুরভিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। সেখানে মদ্যপান করার সময় নাকি তাঁকে রান্নাঘরে পাঠিয়ে দেন সুরভি। সেই সুযোগে নাকি তাঁর পানীয়ে কিছু মিশিয়ে দিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করে দেন ওই যুবতী। যখন ওই ব্যক্তির জ্ঞান ফেরে তখন তিনি খেয়াল করেন তাঁর সোনার হার, আইফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা-সহ ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড (Debit Card) সব খোয়া গিয়েছে। এমনকী ওই কার্ডগুলো ব্যবহার করে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। এর পরই তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।  
[আরও পড়ুন: ‘নতুন ভারতের শিল্পকার’, দেশের প্রথম রিজিওনাল র‌্যাপিড ট্রেনের সূচনা, মোদিকে কুর্নিশ যোগীর]
গত ১২ অক্টোবর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লির চাঁদনী চকের বাড়ি থেকে সুরভিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জেরায় সমস্ত অপরাধ স্বীকার করেন সুরভি। জানান, গত দুমাস ধরে কমপক্ষে ১০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত ওই যুবতীর  বাড়িতে তল্লাশি করার পর পুলিশ সোনার চেন, ১৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ, দুটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি ঘড়ি উদ্ধার করে। জেরায় নিজের দুই সঙ্গী বিশাল ও সুশীলের কথা জানায় অভিযুক্ত। গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদেরও। পুলিশ জানিয়েছে, সাক্ষী,পায়েল এইরকম একাধিক নামে পরিচিত ছিল সুরভি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করার পর লন্ডনের এক ইনস্টিটিউশন থেকে এমবিএ পাশ করেন সুরভি। দল বানিয়ে প্রতারণা চক্র শুরু করার আগে তিনি বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় কাজও করেছেন। 
[আরও পড়ুন: না চাইলে কোনও দম্পতিকে একসঙ্গে থাকতে বলা নিষ্ঠুরতা, মন্তব্য হাই কোর্টের]

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *