দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে হবে, কেন্দ্রকে চাপ INDIA’র নেত্রীদের

বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ আইন (Women’s Reservation Bill) নিয়ে বিজেপির উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করিয়ে নেওয়ার পরে তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রচারের ছক কষেছে বিজেপি (BJP)। এবার তারই পালটা, শুধু বিলা পাস নয়, অবিলম্বে সেই আইন কার্যকরের দাবিকে সামনে রেখে মাঠে নামলেন ইন্ডিয়া জোটের মহিলা নেত্রীরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) এই ইস্যুতে একেবারেই সামনের সারিতে রইলেন।
ইন্ডিয়ার শরিক ডিএমকের পক্ষ থেকে চেন্নাইতে শনিবার মহিলা অধিকার সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই ইন্ডিয়ায় থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মহিলা নেত্রীরা দেশের মহিলাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। দেশের মহিলারা যাতে সব ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে পৌঁছান তাই নিয়ে সাওয়াল করেছেন সোনিয়া। আবার একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi), কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, মুখে মহিলাদের অধিকারের কথা বললেও আদতে তারা কাজের কাজ কিছুই করছেন না।
[আরও পড়ুন: দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কেন! কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের]
সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব। নিজের বক্তব্যে তিনি দেশের মহিলাদের উপর নির্যাতনের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মহিলা সংরক্ষণ আইন অবিলম্বে লাগু করা হবে না? তিনি বলেন, সংসদে জোরালো সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বিজেপির। তাই নির্বাচনের ছয় মাস আগে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করিয়ে গিমিক দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি। সংরক্ষণ চালু করার ক্ষেত্রে যে দুই নিয়মের কথা বলা হয়েছে, তাতে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর হতে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত দেশের মহিলাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে। অথচ বিজেপি সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সেই কাজ আগেই হতে পারতো। সীমানা পুনর্বিন্যাস ও জনগণনা এই দুই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেই মহিলার সংরক্ষণ আইন চালু হবে বলেই বিলে উল্লেখ করা ছিল। কেন্দ্র সরকার ইচ্ছা করেই নীতির গেরোতে বিষয়টিকে আটকে দিয়েছে।
[আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু শয়তান, প্যালেস্টাইনের পাশে থাকুন’, মোদিকে আর্জি ওয়েইসির]
আইন চালু হোক বা না হোক সদিচ্ছা থাকলে যে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায় তা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন সুস্মিতা। সংসদের তৃণমূলের মহিলা প্রতিনিধির সংখ্যা যে চল্লিশ শতাংশেরও বেশি তা উল্লেখ করেছেন তিনি। সম্মেলনে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, এনসিপি (NCP) সংসদ সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির সংসদ ডিম্পল যাদব প্রমুখ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ডিএমকের (DMK) পক্ষ থেকে পুরো সম্মেলনটি পরিচালনা করেছেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ‌্যমন্ত্রী এম করুণানিধি তনয়া লোকসভার সাংসদ কানিমোঝি।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *