সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘যেখানে বলবেন দেখা করব।’ দিল্লি পর্বের পর এবার কলকাতায় এসে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি। তাঁর দাবি, দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সদিচ্ছা ছিল না তৃণমূলের। অভিষেকরা দিল্লি গিয়েছিলেন নাটক করতে, বাংলার মানুষকে বোকা বানাতে।
তৃণমূলের দিল্লি অভিযান নিয়ে মঙ্গলবার রাতে রীতিমতো ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গিয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সদর দপ্তর কৃষি ভবনে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা মন্ত্রকের ভিতরে বসে থেকেও মন্ত্রীর দেখা পাননি তৃণমূল প্রতিনিধিরা। পরে দিল্লি পুলিশ জোর করে তাঁদের মন্ত্রক থেকে বের করে দেয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেখা না করে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছে।
যার জবাব এবার বাংলায় এসে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শনিবার কলকাতায় এসে সাধ্বী বললেন, ”ওদের আমার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাই ছিল না। ওরা ‘তামাশা’ করতে গিয়েছিল। ওরা শুরুতে জানতে চেয়েছিল, কতজন দেখা করতে পারেন আমি বললাম ৫ জন আসুন। ওরা বলল, ১০ জন আসব। আমি বললাম, তাই আসুন। কিন্তু এর পর ওরা বলে, আমরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে আনব। আমি বলেছিলাম, সরকার যেহেতু অভিযোগ করছে, তাই সরকারি স্তরে কথা হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমি পরে আলাদা করে কথা বলে নেব। ওরা আসলে তৃণমূলের কর্মী। সাধারণ মানুষ নয়।”
রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করলেন, “বাংলার মানুষের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করার যে অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল তুলছে, সেটা সত্য নয়। তাঁর দাবি, ৯ বছরে ১০০ দিনের কাজে নরেন্দ্র মোদির সরকার যেখানে মাত্র ১৪,৪০০ কোটি টাকা বাংলাকে দিয়েছে, সেখানে ৯ বছরে মোদি সরকার দিয়েছে ৫৪ হাজার কোটি। আবাস যোজনায় ৯ বছরে ৪ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা দিয়েছিল মনমোহন সরকার। মোদি সরকার দিয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। তাহলে বিমাতৃসুলভ আচরণ কী করে হল।” এই পরিসংখ্যান তুলে ধরার পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চ্যালেঞ্জ করলেন,”আমি পরিসংখ্যান নিয়েই বাংলায় এসেছি। যেখানে বলবেন দেখা করতে রাজি আছি।”
Source: Sangbad Pratidin
