ঘাটে সন্তানের মঙ্গল কামনায় পুজো মায়েদের, চোখের সামনেই গঙ্গায় তলিয়ে গেল ২ কিশোর

অর্ণব আইচ: সন্তানের মঙ্গল কামনায় ‘জিতিয়া’ ব্রত পালন করছিলেন পরিবারের বধূরা। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই গঙ্গার পাড়ে এসেছিলেন মায়েরা। কিন্তু মায়েরা বুঝতেও পারেননি যে, তাঁদের চোখে এড়িয়ে কখন কিশোর ছেলেরা নেমে পড়েছে গঙ্গায়। ক্ষীণ চিৎকার শুনে কয়েকজন গঙ্গার দিকে তাকিয়ে শুধু দেখতে পান, জলের উপর হাত তুলে বাঁচার চেষ্টা করছে দু’জন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তলিয়ে যায় ১৫ বছরের রাহুলপ্রসাদ গুণ ও ১২ বছরের কুণাল সাউ। শুক্রবার সন্ধ‌্যায় গঙ্গা থেকে কুণাল সাউকে ডুবুরিরা উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পুলিশ অন‌্য কিশোরের সন্ধান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এদিন ‘জিতিয়া’ ব্রত পালনের দিন ছিল। সেই উপলক্ষে‌ই শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে গঙ্গার ঘাটে সন্তানকে নিয়ে আসেন মায়েরা। একবালপুর লেনের বাসিন্দা গুণ ও সাউ পরিবারের সদস‌্যরাও গঙ্গার তক্তাঘাটে আসেন। ওই এলাকার বাসিন্দা মোহনপ্রসাদ গুণ ও গোপাল সাউয়ের স্ত্রীরা তাঁদের ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ঘাটে। পুজোয় ব‌্যস্ত ছিলেন তাঁরা। ছেলেরা ঘাটে খেলাধুলো করছিল। তখন জোয়ার ও ভাঁটার মধ্যেকার অবস্থা। আপাতদৃষ্টিতে গঙ্গার জল স্থির বলে মনে হলেও ছিল চোরাস্রোত। মায়েরা যখন পুজোয় ব‌্যস্ত, তখনই দুই কিশোর রাহুলপ্রসাদ ও কুণাল গঙ্গায় নেমে পড়ে। শহরেরই স্কুলের ছাত্র তারা।
[আরও পড়ুন: গণধর্ষণের পর চিরে দেওয়া হয় পা, কামদুনি কাণ্ডের নৃশংসতায় আঁতকে ওঠেন সকলে]
যদিও পুলিশের মতে, তারা সম্ভবত পা ডোবাতে নেমেছিল। কিন্তু তক্তাঘাটে এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারণ, ওই ঘাট অনেকটাই ঢালু। তাই হয়তো তারা শরীরের ভারসাম‌্য না রাখতে পেরে গঙ্গায় ডুবে যায়। পিছল ঘাট ধরে উপরে উঠতে পারেনি। সাঁতার ভাল করে না জানার কারণে চোরাস্রোতে তলিয়ে যেতে থাকে তারা। বাঁচার চেষ্টা করে চিৎকার করার চেষ্টা করে। কিন্তু বধূরা পুজোয় ব‌্যস্ত থাকায় প্রথমে কিছু বুঝতে পারেননি। পুজোয় আসা কয়েকজন মহিলা আওয়াজ শুনে দেখেন, দূরে দুই কিশোর তলিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে তাদের হাত। তাঁদের চিৎকারে আরও অনেকে ঘাটে জড়ো হন। আসে দক্ষিণ বন্দর থানার পুলিশ ও জলপুলিশও। তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধার হয় এক কিশোরের দেহ। অন‌্য কিশোরের সন্ধানে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ২ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, বেকসুর খালাস ৪]

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *