বারো লাখি গাড়ি উপহার ‘বুলা’কে! দুর্নীতিতে ধৃত কনস্টেবলকে জেরা করে তাজ্জব তদন্তকারীরা

অর্ণব আইচ: দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবলের বান্ধবী কোথায়? এবার এই প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইছেন রাজ‌্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার (ACB) গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই বীরভূমের রামপুরহাট থানার কনস্টেবল (Constable) মনোজিৎ বাগীশের কোটি টাকার উপর অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। চার বছরেই অভিযুক্ত কনস্টেবল মনোজিৎ বাগীশ এই বিপুল টাকা ‘রোজগার’ করেছেন বলে অভিযোগ পুলিশর। ওই পুলিশকর্মী গাড়ি কিনে উপহার দিয়েছেন তাঁরই এক বান্ধবীকে। কিন্তু বান্ধবীর ঠিকানা নিয়েই ধন্দে পুলিশ। তাই এবার সেই বান্ধবী বুলা কর্মকারের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। শুক্রবার ব‌্যাঙ্কশালের দুর্নীতি দমন শাখার বিশেষ আদালতে ফের মনোজিৎকে তোলা হলে তার জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী দীপঙ্কর কুণ্ডু। ধৃতকে ফের পুলিশ হেফাজতে রেখে জেরার আবেদন জানান তিনি। ধৃতকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
গত কয়েক বছরের মধ্যেই কোটিপতি হয়েছেন রামপুরহাট থানার (Rampurhat PS) কনস্টেবল মনোজিৎ বাগীশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে তাঁর তিনতলা বাড়ির সন্ধান মিলেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির সন্ধান শুরু করে। তদন্তে রাজ‌্য দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, গত ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত মনোজিৎ ১১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা রোজগার করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গিয়েছে যে, ওই চার বছরে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণই এক কোটি টাকার উপর। এর মধ্যে তিনি ব‌্যাঙ্কে ৭৩ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন।
[আরও পড়ুন: ‘জওয়ান’-এ কম গুরুত্ব পাওয়ায় ক্ষুব্ধ নয়নতারা! বিতর্কে ‘মৌনব্রত’ ভাঙলেন খোদ শাহরুখ]
এছাড়াও বুলা কর্মকার নামে বান্ধবীকে মনোজিৎ উপহার দিয়েছেন ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কেনা একটি বিলাসবহুল গাড়ি। আবার বান্ধবী বুলা কর্মকারের ব‌্যাঙ্ক অ‌্যাকাউন্টে যে ২১ লাখ টাকা মিলেছে, তা যে মনোজিতেরই দেওয়া, সেই সম্পর্কে গোয়েন্দারা অনেকটাই নিশ্চিত। এই ব‌্যাপারে আরও তথ‌্য পেতে মনোজিতের সঙ্গে তাঁর বান্ধবী বুলা কর্মকারের মুখোমুখি জেরার প্রয়োজন বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
[আরও পড়ুন: অডিটের আগে সন্ধেবেলা কেন অফিসে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান? দুর্নীতির অভিযোগে ধুন্ধুমার পাণ্ডুয়ায়]
কিন্তু ওই মহিলার ঠিকানা (Adress) নিয়েই ধন্দে গোয়েন্দারা। ওই উপহারের গাড়িটির ট‌্যাক্স টোকেনের সূত্র ধরে বুলা কর্মকারের একটি ঠিকানা পান গোয়েন্দারা। কিন্তু সেই ঠিকানায় গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বুলা সেখানে থাকেন না। আবার জোরার মুখে মনোজিতের দাবি, বুলা এখন কোথায় থাকেন, তিনি জানেন না। ফলে বুলার মোবাইল নম্বর জোগাড় করে তাঁর সন্ধান চালানো হচ্ছে। এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কনস্টবলের সঙ্গে তাঁর বান্ধবী বুলা সরাসরি জড়িতে কি না, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *