সোনার দোকানের ডাকাতি থেকে শিক্ষা! পুরুলিয়ায় স্বর্ণ বিপণীগুলিকে ১০ দফা নির্দেশিকা পুলিশের

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: শহর পুরুলিয়ার নামকরা সোনার বিপণীতে ৮ কোটি টাকার ডাকাতির ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশকে। তাই ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা এই জেলার সমস্ত স্বর্ণ বিপণীকে ১০ দফা নির্দেশিকা পাঠাচ্ছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। তা খুব শীঘ্রই কার্যকর করার জন্য জেলাজুড়ে সমস্ত স্বর্ণবিপণীর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ১০ দফা নির্দেশিকার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিপণীগুলিতে অ্যালার্ম বা বিপদঘণ্টি রাখা। যাতে যে কোনও অবস্থায় তা কার্যকর করা যায়। যা শহর পুরুলিয়ার নামোপাড়ায় ডাকাতি হওয়া ওই সোনার দোকানে ছিল না। এই বিপদঘণ্টি থাকার কারণেই সম্প্রতি হুড়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক চুরির চেষ্টা থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া সমস্ত সমস্যার মুশকিল আসানে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের অ্যাপ ‘সহায়’ দোকানের সমস্ত কর্মচারীর মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখার পাশাপাশি তার ব্যবহার শেখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে কোনওভাবে না হয় সেটা সকলকেই দেখতে হবে। তাই জেলাজুড়ে সমস্ত স্বর্ণ বিপণীতে ১০ দফা নির্দেশিকা পাঠানো হচ্ছে।”
[আরও পড়ুন: ‘বোমা মেরে মানচিত্র বদলে দেব’, G-20 বৈঠকের মধ্যেই হুমকি ফোন, হুলস্থুল বারাণসী বিমানবন্দরে]
এই ডাকাতির ঘটনার পর জেলা জুড়ে সমস্ত স্বর্ণবিপণীকে নিয়ে বৈঠক করে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। যে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে সেখানে নিরাপত্তাজনিত একাধিক বিষয়ে ফাঁকফোকর ছিল। যা স্বীকার করেছে ওই বিপণী কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই বৈঠক থেকে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ দোকানের মালিকদেরকে সতর্ক, সচেতন থাকার পাশাপাশি ঢিলেঢালা নিরাপত্তার কারণে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ যে অসন্তুষ্ট, তা বুঝিয়ে দিয়েছে। এরপরও যদি স্বর্ণ বিপণীগুলি কোন পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে সে কথাও জানিয়ে দিয়েছে।

ওই নির্দেশিকায় রয়েছে, প্রত্যেকটি সোনার দোকানে স্থানীয় থানা এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর রাখতে হবে। সেই সঙ্গে থানার ইনচার্জ বা অন্যান্য অফিসারদের ফোন নম্বর তালিকা করে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ রয়েছে। দোকানের মালিক এবং কর্মচারীদের ফোনে অবশ্যই এসওএস সুবিধা রাখতে হবে। যাতে কোনও বিপদ হলে এক টাচেই অনেকের কাছে বার্তা পৌঁছে যাই। কারণ এই ডাকাতির ১৮ মিনিট পর পুলিশের কাছে খবর আসে। এই শহরের আশপাশজুড়ে রয়েছে ঝাড়খণ্ড। ফলে ১৮ মিনিটে ঝাড়খণ্ড সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া খুবই সহজ। দোকানে সিসিটিভি থাকলেও তার দ্বিতীয় ডিভিআর যেন থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এই ঘটনায় সিসিটিভির ডিভিআর নিয়ে গিয়েছিলো দুষ্কৃতীরা। ফলে তদন্তে সমস্যায় পড়ে পুলিশ। সিসিটিভি সরাসরি দেখার জন্য আলাদাভাবে কর্মী নিয়োগ করতে হবে। তা প্রয়োজনে দোকানের বাইরে বা অন্য কোনও স্থানে। এমনকী বাড়িতে কিংবা স্থানীয় থানাতেও এর যাতে লিংক দেওয়া যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ রয়েছে।
[আরও পড়ুন: G-20: প্রাচীন ভারতের সুরলহরীতে অতিথি আপ্যায়ন, রাষ্ট্রপতির নৈশভোজে বিশেষ আয়োজন]
বড় দোকানের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ লাইসেন্স যুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র সমেত নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হবে। যা এই সোনার দোকানে ছিল না। নিরাপত্তারক্ষী কেবলমাত্র নিরাপত্তার কাজই করবেন। এছাড়া অন্য কোনও কাজ করবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাতে এবং ছুটির দিনেও এই বিপণীগুলিতে নিরাপত্তা রাখা আবশ্যিক বলে জানিয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। দোকানে ক্রেতাদের ওপর ঠিকমতো নজর রাখতে হবে। ক্রেতাকে অবশ্যই মাস্ক এবং হেলমেট খোলার পর ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় জানানোর কথা বলা হয়েছে। দোকানের কর্মচারীদের নিয়োগের সময়ে তাদের ‘ভেরিফিকেশন’ করা আবশ্যক। এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খোঁজ নিতে হবে। যেমন পুলিশ অফিসারদের ফোন নম্বর রয়েছে কিনা। সিসিটিভি ক্যামেরা তার ব্যাকআপ, অ্যালার্মের পরিস্থিতি ঠিক রয়েছে কিনা সেগুলো দেখে রাখতে হবে। কোনও সমস্যা হলে যাতে দ্রুত সচল এবং কার্যকরী করা যায়। প্রত্যেকটি দোকানে ভিজিট বুক রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বর্ণ বিপণীগুলিকে সুরক্ষায় ১০ দফা নির্দেশিকা:
স্থানীয় থানা ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর রাখা
কর্মচারীদের মোবাইলে ‘সহায়’ অ্যাপ ডাউনলোড
ফোনে এসওএস সুবিধা
সিসিটিভির দ্বিতীয় ডিভিআর
বিপদ ঘণ্টি
লাইসেন্স যুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র সমেত নিরাপত্তারক্ষী
ক্রেতাকে দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় থানায় জানানো
নিয়োগের সময় কর্মচারীদের ‘ভেরিফিকেশন’
নির্দিষ্ট সময় অন্তর সিসিটিভি ক্যামেরা ও তার ব্যাকআপ অ্যালার্ম কার্যকর আছে কিনা তার তদারকি
ভিজিট বুকের ব্যবস্থা

Source: Sangbad Pratidin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *